

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দ্রুত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের উদ্যোগে ‘নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, ১০০ দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এ কথা বলেন।
সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের উপর এক গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, বহুত্ববাদী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও দক্ষতা নিয়ে চলতে পারলে তিনি ইতিহাসে দাগ রেখে যেতে পারবেন।
তিনি দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তাবিরোধী সব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ ও অসম চুক্তিসমূহ বাতিলের উদ্যোগ নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী পুরোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে দল ও সরকারকে পৃথক রাখার কথা বলেন। তিনি রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার আহ্বান জানান।
সাংবাদিক ও কবি সোহরাব হাসান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন টাকার খেলা, পেশিশক্তি ও ধর্মের ব্যবহার রোধ করতে পারেনি। অধিকাংশ ভালো মানুষেরাই নির্বাচনে জিততে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, দেশে ডানপন্থার উত্থান ঘটেছে। নির্বাচন তা আর এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রই এ দেশের ভবিষ্যৎ।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম বলেন, এ দেশে সরকারে গণতন্ত্রের কথা ভুলে যাওয়া হয়। এ দেশে বিরোধী দলই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাঁচিয়ে রাখে।
তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের কারণে সরকারপ্রধানের ইমেজ যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুর নূর বলেন, সংসদ সদস্যপদকে অলাভজনক করতে হবে। সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানান।
মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব বাবর চৌধুরী।