কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। ৫৮ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপকূলীয় জেলা ভোলা ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলোর মৎস্য অধিদপ্তর নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দীর্ঘ এ নিষেধাজ্ঞার ফলে উপকূলীয় জেলা ভোলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৬৫ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার। সাগরমুখী ভোলার জেলেরা জানিয়েছেন, সরকারের জারিকৃত এ আইন মেনে তারা ইতোমধ্যে জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরেছেন।

ভোলা সদরের ইলিশা মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রথম সপ্তাহেই সাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়৷ পাশাপাশি এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকা আদায় বন্ধ রাখা হয়।

ভোলা জেলার মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। যারা শুধু সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫৬১ জন জেলে রয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলায়। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন এবং ভোলা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৮ জন জেলে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন।

এদিকে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেরা সাগরে প্রশাসনের টহল ও অভিযান আরো জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন যেন কোনোভাবেই ভিনদেশি জেলেরা বাংলাদেশের সীমানায় অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। দেশের জলসীমায় কঠোর নজরদারি জোরদার হলে নিষেধাজ্ঞা শেষে পর্যাপ্ত মাছ আহরণের ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করছেন ভোলার জেলেরা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও টাস্কফোর্স কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মাছ ঘাটগুলোতে সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলেদের অভাব লাঘবে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ভোলার বিভিন্ন মাছ ঘাট ও মেঘনা নদীর সংযোগ খালগুলোতে দেখা গেছে, সমুদ্র থেকে ফেরা ট্রলারগুলোর ভিড় বাড়ছে। তীরে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। তারা নিজেদের জাল, ট্রলার ও সরঞ্জামাদি নিরাপদে রাখছেন। কেউবা ছেড়া জাল সংস্কার করছেন। কেউ করছেন ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামতের কাজ।

তবে, যথাসময়ে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলে জেলার সমুদ্রগামী এসব জেলে আগামী ৫৮ দিন পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাতে পারবেন বলে মনে করছেন জেলার মৎস্য সংশ্লিষ্ট সমিতির নেতারা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দক্ষিণ লেবাননে ৭০টির বেশি স্থাপনায় হামলার দাবি ইসরায়েলের

গুম-নির্যাতন মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

আ.লীগের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রোববার চুক্তি সইয়ের দাবি ট্রাম্পের, ভিন্ন কথা বলছে ইরান

১৪ জুন / কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

যে কীর্তিতে পেলে-রোমারিওকেও ছাড়িয়ে গেলেন ভিনিসিয়াস

খেলাপ্রেমীদের জন্য চরম উত্তেজনায় কাটবে দিনটি

নিজেকে দক্ষ করে তুললে অর্থের অভাব হবে না : ভূমিমন্ত্রী

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই প্রথম গোলের দেখা পেল স্কটল্যান্ড

রোববার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১০

টিভি থেকে আজ মুখ ফেরাতে পারবেন না খেলাপ্রেমীরা

১১

দুপুরের মধ্যে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরেও সতর্কতা

১২

শুরুতেই ধাক্কা, হেক্সা মিশন সফল করতে পারবে ব্রাজিল?

১৩

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

১৪

চাকরির ইন্টারভিউতে বেতনের প্রশ্নের উত্তর দেবেন যেভাবে

১৫

বিশ্বকাপে ৯২ বছরের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখল ব্রাজিল

১৬

মাস শেষে টাকা থাকে না? মধ্যবিত্তের ৭ সাধারণ ভুল

১৭

হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলকে জিততে দিল না মরক্কো

১৮

ছুটির আবেদন মঞ্জুর করানোর বিশেষ ৮ কৌশল

১৯

শেষ পর্যন্ত ‘পল্টি’ই মারলেন সাকিব

২০
X