মাকসুদা সাত্তার অদিতি
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সংসার থেকে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার

মাকসুদা সাত্তার অদিতি।
মাকসুদা সাত্তার অদিতি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নারী শুধু একটি পরিচয় নয়; নারী সাহস, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত প্রতীক। সমাজের তৈরি দেয়াল, পারিবারিক দায়িত্ব আর হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও নারীরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। একজন নারীর সংগ্রাম কেবল তার ব্যক্তিগত জয়ের গল্প নয়, বরং তা হাজারো নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথের মশাল।

আমার জীবনপথও ছিল স্বপ্ন আর বাস্তবতার এক নিরন্তর লড়াই। যশোরের বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ২০০৯ সালে শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ার পর, ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ২০১৩ সালে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করি। উচ্চশিক্ষার এই যাত্রা আমার স্বপ্নের অংশ ছিল ঠিকই, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে দায়িত্বের বোঝা এসে পড়েছিল খুব অল্প বয়সেই।

অল্প বয়সে বিয়ে এবং খুব দ্রুত মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া এই দুই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আমার জীবন আমূল বদলে যায়। একদিকে সংসার সামলানো, অন্যদিকে সন্তানের লালন-পালন; এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিজের অস্তিত্ব বা স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখা ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। তবে মনের কোণে একটি বিশ্বাস সবসময় অটুট ছিল লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, তবে প্রতিকূলতা একদিন হার মানবেই।

পড়াশোনা শেষ করার পর শুরু হয় পেশাজীবনে প্রবেশের দীর্ঘ সংগ্রাম। চাকরির বাজার আর জীবনের বাস্তবতার মাঝে বারবার হোঁচট খেয়েছি। অনেক ব্যর্থতা এসেছে, অনেক দরজা বন্ধ হয়ে গেছে মুখের ওপর। মাঝে মাঝে হতাশায় ডুবেছি, কিন্তু থেমে থাকিনি। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ধৈর্য আর নিরলস প্রচেষ্টার ফল হিসেবে অবশেষে আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ পাই। বর্তমানে আমি সেখানে অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। আজকের এই অবস্থান হয়তো অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, ত্যাগ আর লড়াইয়ের এক অদৃশ্য মহাকাব্য।

আমার এই যাত্রা হয়তো কোটি নারীর সাধারণ গল্পের মতোই একটি, কিন্তু এর গভীরে লুকানো সত্যটি চিরন্তন—‘একজন নারী যদি নিজের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে, তবে পৃথিবীর কোনো বাধাই তাকে অবরুদ্ধ করতে পারবে না।’

নারী দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখার দিন। প্রতিটি নারী যদি নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখে, তবে সে কেবল নিজের জীবনই বদলাবে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ তথা গোটা জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে। নারীর প্রকৃত শক্তি নিহিত তার ধৈর্যের গভীরতায় এবং হার না মানা মানসিকতায়। সেই শক্তিই তাকে প্রতিটি অন্ধকার পেরিয়ে নতুন এক সম্ভাবনাময় ভোরের দিকে নিয়ে যায়।

লেখক- ব্যাংকার

কালবেলা/এনএএস
[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘অন্য সবকিছু ভুলে যাও’ কেন বলেছিলেন মেসি, জানাল আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম

ইউপি নির্বাচনের সময় জানালেন মন্ত্রী

শিল্পকলায় চার দিনব্যাপী বাঁশরী নজরুল নাট্যোৎসব

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

নিট প্রশ্নফাঁসে উত্তাল ভারত / টপার বললেন ‘আন্দোলনে না গিয়ে বাসায় পড়াশোনা করেছি’

অঞ্জন দত্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকায় ট্রিবিউট কনসার্ট

ইউপি নির্বাচনের আগাম প্রচারণা, বিএনপি নেতাকে শোকজ

এফএসআরইউতে ত্রুটি / জাতীয় গ্রিডে কমেছে গ্যাস সরবরাহ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও তপশিলের সম্ভাব্য সময় জানালেন ইসি আনোয়ারুল

১০

বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি

১১

সাইদুর রহমানের নতুন দায়িত্ব বাংলাদেশের জনকূটনীতির নতুন সম্ভাবনা

১২

ভিসা সুবিধায় উগান্ডার চেয়ে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট

১৩

ইস্তাম্বুলের অলিগলিতে আধুনিকতার ছোঁয়া: মেট্রো পাল্টে দিয়েছে শহরের চিত্র

১৪

আর্জেন্টিনাকে স্পেনের হারানোর ম্যাচটি দেখেছেন ৬৩ মিলিয়ন মানুষ

১৫

গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, ব্যাখ্যা দিলেন শিশির মনির

১৬

জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি বহুল আলোচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত: চরমোনাই পীর  

১৭

আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

১৮

শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

১৯

মোটরসাইকেল-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পরীক্ষার্থী নিহত

২০
X