

ভারতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে। এরই মধ্যে ভারতে নিট পুনঃপরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী পাংশুল বানসাল বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে আন্দোলন চললেও তিনি বিক্ষোভে অংশ না নিয়ে ঘরে বসে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, চলতি বছরের ৩ মে স্নাতক পর্যায়ের মেডিকেল ভর্তির নিট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় ১২ মে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। ঘটনার তদন্ত করছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)।
এরপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ২১ জুন আবারও অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৬ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়। নিট-২০২৬ পুনঃপরীক্ষায় পাংশুল বানসাল ৯৯ দশমিক ৯৯৯৯ পার্সেন্টাইল অর্জন করে সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হন। পুনঃপরীক্ষায় তার প্রাপ্ত নম্বর ৭১৫।
প্রথম পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে পাংশুল বলেন, ‘শুরুর দিকে খুব হতাশ ও দুঃখ পেয়েছিলাম। কিন্তু এক-দুই ঘণ্টা পর বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখতে শুরু করি। তখন নিজেকে আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত করি।’
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাংশুল বলেন, ‘আমি ভাবলাম, আন্দোলনে গিয়ে সময় নষ্ট করব কেন? তার চেয়ে বাসায় বসে পড়াশোনা করি, নিজের দক্ষতা বাড়াই এবং আরও ভালো নম্বর পাওয়ার চেষ্টা করি।’
অতিরিক্ত দেড় মাসের প্রস্তুতিতে কী পরিবর্তন এনেছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে পাংশুল বলেন, ‘আমি আমার রুটিনে কোনো পরিবর্তন আনিনি। আগের মতোই পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। শুধু মনে করেছি, এই দেড় মাসে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে হবে, বাকিটা ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম, পরীক্ষা কেন বাতিল করা হলো? কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম যে ওই ফলেই সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতাম। পরে সিদ্ধান্ত নিই, নেতিবাচক চিন্তা না করে মূল লক্ষ্যেই মনোযোগ দেব। যা হবে, ভালোই হবে। পরীক্ষা শেষ হলেই মানসিক চাপও শেষ হয়ে যাবে।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে পাংশুল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’