শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মিঠু দাস জয়
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সিলেটে ফাহিমা হত্যা

আমরা কোথায় দাঁড়িয়েছি, কতটুকু মানুষ আমরা?

শিশু ফাহিমা। ছবি : সংগৃহীত
শিশু ফাহিমা। ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা হত্যার পর প্রশ্ন উঠেছে- আমরা কি মানুষ। কতটুকু মানুষ? মানুষ হলে আমরা কি পারলাম ফুটফুটে ছোট একটি শিশুর জীবন রক্ষা করতে। আমরা কি পারছি সমাজের এ কীটগুলোকে সমূলে ধ্বংস করতে। আমাদের চারপাশে বাড়ছে নষ্টদের বিচরণ।

পুতুল খেলার বয়সে একটি চার বছরের শিশুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার ঘটনায় হতবাক দেশের মানুষ। লজ্জিত পুণ্যভূমি সিলেটের মানুষ। মৃত্যুর মাধ্যমে ফাহিমা প্রমাণ করে গেলো এই সমাজ কতটা উপযোগী নারী শিশুদের জন্য। এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের বুক খালি করেনি, নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো সিলেটকে। ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠেছে, একটি শিশু কতটা অনিরাপদ হলে এমন পরিণতি হতে পারে।

ফাহিমা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের উৎকণ্ঠা, পরে তার মরদেহ উদ্ধার এবং হত্যার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর গা শিউরে উঠার মতো হত্যার বর্ণনা দিয়েছে গ্রেপ্তার জাকির হোসেন। জাকির নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকিরকে বলতে শোনা গেছে, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দিয়ে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিল। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন মেয়েটার প্রতি আমার খারাপ দৃষ্টি চলে যায়।’

জাকিরকে আরও বলতে শোনা গেছে, ‘পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছিলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এ চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দিই।’

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন। পুলিশ জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে ফাহিমাকে পরে হত্যা করে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেয়।

মানুষ কত অমানুষ হতে পারে ফাহিমা হত্যাকাণ্ড তা প্রমাণ করে। ঘটনাটি মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। শিশুদের আজ নিরাপত্তা কোথায়। ফাহিমার মতো একটি শিশু তো নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতাও রাখে না। তার নিরাপত্তার দায়িত্ব পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রও নিতে পারলো না।

তবে, এই হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করেছে, শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন রোধে আমাদের সামাজিক প্রতিরোধ এখনো দুর্বল। পরিবারে, পাড়ায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি জরুরি। কারণ বিচারহীনতা অপরাধকে উৎসাহিত করে।

ফাহিমা আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার মৃত্যু যেন আরেকটি পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, শিশু নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ এবং সামাজিক সচেতনতা এগুলোই হতে পারে ছোট্ট ফাহিমার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্থানীয় সরকারে ভোট দিতে ভোটার হওয়ার শেষ সময় ৩১ জুলাই

শাশুড়িকে হত্যার পর গোপনে দাফন, পুত্রবধূর স্বীকারোক্তিতে রহস্য ফাঁস

বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল ২ ভাইয়ের

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

এইচএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ভুয়া পরীক্ষার্থী আটক

পাবিপ্রবির নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

৯ দিন আত্মগোপনে থাকার পর ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

ম্যারাডোনা থেকে মেসি: বাংলাদেশে কেন আর্জেন্টিনার ফুটবল নিয়ে এত উন্মাদনা

রিজার্ভ আরও বাড়ল

রাকিবের ‘ঘৃণার’ পর জুলাই নিয়ে বক্তব্য সম্পর্কে যা বললেন নিলোফার মনি

১০

মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান জিরো টলারেন্স: গয়েশ্বর

১১

লাল কার্ডের যে তালিকায় সবার ওপরে ব্রাজিল

১২

রাত পোহালেই শিল্পী সমিতির ভোট, মুখোমুখি দুই প্যানেল

১৩

স্কুল ফিডিংয়ে ‘নষ্ট খাবার’ দিল ঠিকাদার, শোকজ খেলেন প্রধান শিক্ষক!

১৪

আজীবন বিএনপি করে মরতে চান নরসিংদী জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা

১৫

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার দিনে অন্তত ২১ হাজার শিশু নিহত

১৬

যুবককে বুকে ঘুষি দিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক ১

১৭

নতুন ভিসানীতির অনুমোদন

১৮

শ্রমিক নেতাকে হত্যার অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার 

১৯

স্প্যানিশ অভিনেত্রীর সঙ্গে এমবাপ্পের প্রেমের গুঞ্জন

২০
X