সুন্নী মতাদর্শী ৩টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এর সমন্বয়ে ‘বৃহত্তর সুন্নী জোট’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ৩টি দলের শীর্ষ নেতারা যৌথভাবে নতুন এই জোটের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদীন জুবাইর। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী জুলাই-’২৪ এর ন্যায় অন্যকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে এদেশে এত বেশি রক্তপাতের ঘটনা আর ঘটেনি।
সংবাদ সম্মেলনে ১৭ দফা দাবি এবং ২১ দফা ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এর মহাসচিব অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ। লিখিত বক্তব্যে জুলাই-’২৪ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি, শহীদদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনর্বাসন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহ পুনর্বাসনেরও দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিগত এক বছরে মব ভায়োলেন্স, সন্ত্রাস, খুনসহ অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অতীতের ন্যায় অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, দখল- বেদখল এর মতো ঘটনায় জনজীবন ওষ্ঠাগত।
বিগত এক বছরেও সংস্কার দৃশ্যমান হয়নি এবং সরকারসংশ্লিষ্ট অনেকেরই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ’২৪-এর আন্দোলনের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পিআর পদ্ধতি একটি নতুন কনসেপ্ট। এতে জনগণ সংশয় ও বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। এছাড়া জাতীয় নীতি নির্ধারণে সকল নিবন্ধিত দলের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া এবং সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা, অবৈধ অর্থ পাচার রোধ এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা, নির্বাচনের পূর্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা, দুর্নীতিবাজ, আদালতের রায়ে দণ্ডিত সন্ত্রাসী, ঋণখেলাপি, বিদেশে অর্থ পাচারকারী ও কালো টাকার মালিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার চেতনার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা; শান্তিপূর্ণ ও অহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া।
সুদমুক্ত, ন্যায্য ও উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা; কৃষি, শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি; মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজারদর স্থিতিশীলকরণে সিন্ডিকেট ও কালোবাজারি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা; জাতীয় সম্পদ গ্যাসসহ খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা; বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন বাজার সৃষ্টি ও প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণ; কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যুগোপযোগী জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রণয়ন; মাদরাসা, সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধন; মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের পদক্ষেপ গ্রহণ; নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং মাদক, জুয়া ও অনৈতিক সংস্কৃতি নির্মূল করা।
সংবাদ সম্মেলনে যৌথভাবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিএসপি’র চেয়ারম্যান পীরে তরিকত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান পীরে তরিকত ছৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পীরে তরিকত শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী, এম এ মতিন, পীরে তরিকত ছৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী, অধ্যক্ষ এস এম ফরিদ উদ্দীন, আবু সুফিয়ান আবেদী আলকাদেরী, এডভোকেট আবু নাছের তালুকদার, এম সোলায়মান ফরিদ, অধ্যক্ষ এম ইব্রাহীম আখতারী, আল্লামা খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী, মোশাররফ হোসেন হেলালী, মাওলানা আশেকুর রহমান হাশেমী, মাওলানা বাকি বিল্লাহ আজহারী, মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, স ম হামেদ হোসাইন, এইচ এএম মুজিবুল হক শাকুর, মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া, মো. সোহেল সামাদ বাচ্চু, ঢালি কামরুজ্জামান হারুন, মোহাম্মদ আবদুর রহিম, অধ্যক্ষ আলী মোহাম্মদ চৌধুরী, এ এম মঈনউদ্দীন চৌধুরী হালিম, মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদ, মাসুম বিল্লাহ মিয়াজি, এড. ইসলাম উদ্দীন দুলাল, তরিকুল হাসান লিংকন, এড. ইকবাল হাসান, আবদুল হাকিম, এস এম তারেক হোসাইন, কাজী জসিম উদ্দীন আশরাফী প্রমুখ।
মন্তব্য করুন