

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আধিপত্যবাদী শক্তি নানা কৌশলে ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কেরানীগঞ্জে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্যকালে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।
জনসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেশের মানুষের কাছে খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই— এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। বাংলাদেশ কোন পথে যাবে, আধিপত্যবাদী শক্তি আবারও দেশে প্রভাব বিস্তার করবে কি না, নাকি বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে— এই সিদ্ধান্ত হবে এবারের নির্বাচনে।
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন। অথচ এই নির্বাচনকে ঘিরে আধিপত্যবাদী শক্তি নানা কৌশলে ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে ‘
নাহিদ আরও বলেন, এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে— সীমান্তে আরও হত্যাকাণ্ড চলবে কি না, ফেলানির মতো আর লাশ দেখতে হবে কি না। আবরার ফাহাদের মতো আমাদের ভাইদের আবার শহীদ হতে হবে কি না, সেটিও ঠিক হবে এই নির্বাচনে।
দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, ৫ আগস্ট যেভাবে আপনারা রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলার তরুণ সমাজ, নারীরা, আলেম সমাজ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামবেন। নিজেদের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব নিজেরাই রক্ষা করবেন।
ঢাকার আসনগুলোতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা জেলায় জোটের পক্ষ থেকে ৫ যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যারা নতুন বাংলাদেশ, সংস্কার ও ইনসাফের পক্ষে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, ঢাকা জেলার ৫টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা হলেন— ব্যারিস্টার মো. নজরুল ইসলাম (ঢাকা-১), অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল হক (ঢাকা-২), অধ্যক্ষ মো. শাহিনুর রহমান (ঢাকা-৩), দিলশানা পারুল (ঢাকা-১৯) এবং ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিম (ঢাকা-২০)।
এ বিষয়ে নাহিদ বলেন, এই প্রার্থীরা সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ইনসাফের পক্ষে লড়ছেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন