মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ত্রিমুখী ভাবনায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের ভোটাররা

বাঁয়ে বিএনপি পার্থী এস এ জিন্নাহ কবির, মাঝে জামায়াত প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক ও ডানে স্বতস্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজা। ছবি : কালবেলা
বাঁয়ে বিএনপি পার্থী এস এ জিন্নাহ কবির, মাঝে জামায়াত প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক ও ডানে স্বতস্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজা। ছবি : কালবেলা

আর কয়েক দিন পরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনী উত্তাপে সরগরম হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জের-১ আসন। ভোটের মাঠে এই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। কে জয়ী হবেন তা নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষ। বিএনপি ও বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারনা করছেন এই আসনের লোকজন।

পদ্মা-যমুনা পাড় ঘেষা মানিকগঞ্জ-১ আসন। এই আসনে মোট প্রার্থী সাতজন থাকলেও এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা ভোটারদের। ৫৪৮ বর্গ কিলোমিটার আয়াতনের এই আসনে স্বাধীনতার পর থেকেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকেই টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিজের দলের বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ানোয় নৌকার কাছে হোঁচট খায় বিএনপি।

এবারও সেই বিদ্রোহী প্রার্থীর অধ্যায় নতুন করে আলোচনায়। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক ছাত্রনেতা তোজাম্মেল হক তোজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠে থাকায় বিএনপির জন্য তৈরি হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই আসনের চরাঞ্চলের সন্তান ও দীর্ঘদিনের ছাত্র রাজনীতি করায় সাধারণ মানুষ ও তরুণ ভোটারদের মাঝে রয়েছে তার আলাদা গ্রাহণযোগ্যতা।

অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষের পার্থী এস এ জিন্নাহ কবির, যাকে এই আসনের লোকজন চিনেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে। গত ১৫ বছরে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তৃণমূল বিএনপি ও সাধারণ মানুষদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি।

এই আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র পার্থী থাকায় জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি এই আসনে বিজয়ের জন্য ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালাছেন।

নদীভাঙন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংকট, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, শিল্পকারখানার অভাব, বেকারত্ব আর মাদকের ভয়াল থাবায় প্রতিনিয়ত এসব সমস্যা নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে এই আসনের মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ আরিচা ও পাটুরিয়া ফেরিঘাট থাকলেও স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৪জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৭হাজার ৯৬২ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন। এবং মোট প্রার্থী রয়েছেন ৭জন।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের প্রর্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত এস এ জিন্নাহ কবীর, জামায়াত ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুছাইন, জনতা দলের প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর মনোনীত প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম, বিএনপির বহিস্কৃত স্বতস্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হক, ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারি।

এই আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, মানিকগঞ্জ-১ আসনে এবার এককভাবে কেউ ভোট পাবেন না। আগে এই আসনে ভোট হতো নৌকা, ধানের শীষের মধ্যে। এবার সবাই কানাঘুসা করছে ভোট হবে বিএনপি, জামায়াত আর স্বতন্ত্র প্রার্থীর মেধ্যে।

তারা আরও জানান, এবার বুঝা যাচ্ছেনা কোন প্রার্থী ভোট বেশি পাচ্ছেন। ভোটের মাঠে বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র পার্থীর ভোট রয়েছে প্রায় সমান তালে।

বিএনপির প্রার্থী এসএ জিন্নাহ কবীর বলেন, যে কয়টি রাজনৈতিক দল নির্বাচন করছে তাদের মধ্যে একমাত্র স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হচ্ছে বিএনপি। ভোটাররা সিন্ধান্ত নিয়েছেন দেশর উন্নয়ন ও শাস্তির পক্ষে ধানের শীষে ভোট দিবে। আমি আশা করছি ৭৫% ভোট পাবো।

স্বতস্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজা বলেন, বিএনপির পক্ষে যে মনোনয়ন পেয়েছে, সে কখনো মাঠের জরিপে আমার থেকে এগিয়ে ছিলো না। নেতাকর্মী অর সমর্থকদের ভালোবাসায় আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি আসা করি নির্বাচন সঠিক হলে নিশ্চিত বিজয় হবো।

জামায়াত ইসলামের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ভোটাররা অতীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয়পার্টিকে ক্ষমতায় দেখেছেন। তারা দেশকে সন্ত্রাস দুর্নীতি ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। সেই জন্য এবার নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিয়ে জামায়াত ইসলামকে রাষ্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিবেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ নিয়ে গাভির ভবিষ্যদ্বাণী

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকে ছাত্রদল নেতাদের মারধর

সনাতন ধর্মাবলম্বী ৩ প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পাশে দাঁড়ালেন জামায়াতের এমপি

‘গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে’

হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

লেবাননে ইসরায়েলি জেনারেলের গাড়িতে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভের ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির

দক্ষিণ লেবাননে আবারও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১

ভারতে সূর্যাস্ত, বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে সরিয়ে দিল বিসিসিআই

পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

১০

তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, থাকবে কদিন?

১১

পশ্চিম তীরের বসতিতে কর ছাড়ের আইন পাস ইসরায়েলের

১২

নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হলো মুনতাহা

১৩

শত্রুরা ইরানের জনগণের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে : মোজতবা খামেনি

১৪

মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : চেয়ারম্যান

১৫

‘জামায়াত নেতার বেদে মেয়েদের চুল কেটে দেওয়ার’ দাবিটি ভুয়া

১৬

কক্সবাজারে মাটিচাপায় দুই শ্রমিক নিহত

১৭

উন্নয়ন বরাদ্দের তালিকায় অস্তিত্বহীন মসজিদ, বিএনপি নেতাকে শোকজ

১৮

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

১৯

দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে : স্টেফান লিলার

২০
X