

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ‘রহস্যজনক নীরবতা’র তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ।
সোমবার (০২ মার্চ) এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব শাইখুল হাদিস মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরায়েলি হিংস্র থাবার যে তাণ্ডব চলছে, তা কেবল একটি ভৌগোলিক যুদ্ধ নয়; বরং এটি ইসলামি সভ্যতা ও মুসলিম উম্মাহর সার্বভৌমত্বের ওপর এক সুগভীর আঘাত। ইরান, ফিলিস্তিনসহ একের পর এক মুসলিম জনপদ আমেরিকার আগ্রাসী নীতির কারণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, আমেরিকার এই হিংস্র ও সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র আজ গোটা বিশ্বব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানে আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের নীরবতায় বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
তার ভাষায়, বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি আজ অসহায় দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যখন কোনো মুসলিম দেশে হামলা হয়, তখন জাতিসংঘের মানবাধিকারের বুলি যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জাতিসংঘ কি কেবল শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে?
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, এই বৈষম্যমূলক আচরণ মুসলিম বিশ্বকে সাধারণ মানবাধিকারের বাইরে গিয়ে ‘মুসলিম মানবাধিকার’ নিয়ে পৃথকভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করছে।
এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোটের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মাওলানা রাব্বানীর দাবি, বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার রক্ষাকবচ হিসেবে যে জোটের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল, তারা আজ আমেরিকার একপাক্ষিক হামলার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের ঘটনায় ন্যাটোর নীরবতা কিংবা পরোক্ষ সমর্থন তাদের অস্তিত্বের যৌক্তিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মদদপুষ্ট যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের মজলুম জনগণের ওপর ইসরাইলি বর্বরতা চললেও আজ তার পরিধি বাড়িয়ে ইরানকেও একই আগুনের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাব্বানী মনে করেন, জাতিসংঘ ও ন্যাটোর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি মার্কিন তল্পিবাহক হিসেবেই কাজ করে, তবে মুসলিম দেশগুলোর জন্য নতুন কোনো ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা সময়ের দাবি। পশ্চিমা শক্তিগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতি’ আর বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।