

জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই অভ্যুত্থানকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কখনও সেই চেষ্টা করেননি।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় ‘অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল।
মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকারের দেড় বছরে ছাত্রদের দলের ওপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে গেছে। পরে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এমন ভাব নিল যে, ২০২৪ সালের ১০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শুধু তারা আন্দোলন করে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন করে ফ্যাসিস্টকে বিদায় করেছে বিএনপি। যুক্তরাজ্যে থেকে সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। ’
জামায়াতের উদ্দেশে যুবদল সভাপতি বলেন, ‘জাতীয় সংসদে জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য বললেন তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরবর্তীতে তার মিথ্যা বক্তেব্য ধরা পড়লে বললেন, তিনি নাকি অসুস্থ ছিলেন। সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তারা মিথ্যাচার করছে। আবার কুমিল্লা ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া একজন স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে ধর্ষণের পর বিয়ের চাপ দিলে তিনি গুমের নাটক করলেন। এটাই তাদের রাজনীতি। ’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা রক্ষা ও দেশের পক্ষে সব সময় রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করেছে যুবদল। আগামী দিনেও বাংলাদেশের রাজনীতির যেকোনে ঝুঁকি মোকাবিলার করার জন্য যুবদল মাঠে থাকবে ইনশাল্লাহ। ’
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নিয়ে কোনো আপত্তিকর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিলে যুবদল বসে থাকবে না। যুবদলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসলে পরিণতি ভালো হবে না। ’
এসময় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অক্ষুণ্ন রাখতে নেতাকর্মীদের সর্তক ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মিছিলে ‘আমরা শক্তি, আমরা বল, জাতীয়তাবাদী যুবদল’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মূহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘গুপ্ত গুপ্ত, জামাত শিবির গুপ্ত’, ‘কে বলে রে জিয়া নাই, জিয়া সারা বাংলায়’-এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
মহাখালীর কাঁচাবাজার থেকে প্রতিবাদ মিছিলটি শুরু করে তেজগাঁও সাত রাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন– প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজসহ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী।