

জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য, সংলাপ, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং বিচার ও সংস্কার প্রশ্নে যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। জুলাই কারো একার নয়, জুলাই সবার।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ও সংকল্প রক্ষায় আন্দোলনরত বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জুলাই সংগঠকরা। মতবিনিময় সভা আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময় অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সংস্কারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যার যার অবস্থান থেকে জুলাই সংগঠকদের দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। তবে সেই অর্জনকে সুসংহত করতে হলে জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময় আরও জোরদার করতে হবে। জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে আত্মসমালোচনা ও আত্মোপলব্ধির চর্চা প্রয়োজন।
মঞ্জু আরো বলেন, জুলাই উদ্যাপন যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো জুলাইয়ের চেতনাকেও কোনো নেতিবাচক ট্যাগিংয়ের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। আমরা এখনো সেই কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারিনি, যেখানে জুলাইয়ের স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে। জনগণের কাছে একটি কার্যকর বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
সভায় সমাপনী বক্তব্যে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই শুধু স্মৃতির বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের একটি ভিত্তি। আগামী দিনের সংগ্রাম ও রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি হিসেবে জুলাইকে ধারণ করতে হবে। ২০২৪ সালের আন্দোলন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রজন্মের যোদ্ধা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সাংস্কৃতিক লড়াই অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, আমরা এখনো জুলাইকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছে দিতে পারিনি। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিসরে জুলাই নিয়ে যথেষ্ট কাজ হয়নি। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ট্রল ও অপপ্রচারের মুখোমুখি হতে হয়। জুলাইকে সেলিব্রেট করার আগে জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। দেশের প্রশ্নে আমরা যেভাবে এক ছিলাম, ভবিষ্যতেও সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি বলেন, জুলাই আমার জীবনের একটি অবিস্মরণীয় স্মৃতি। ৫ আগস্ট ফজরের নামাজের পর যখন মাদ্রাসার ছাত্রদের রাজপথে দেখেছিলাম, তখনই মনে হয়েছিল আমরা পরাজিত হবো না। জুলাই কারো একার নয়, জুলাই সবার।
সভায় আরও বক্তব্য দেন রেভুলেশন ওয়াচের আহ্বায়ক সানজিদ হাসান তানভির, জুলাই সংগঠক লাবিব মাহমুদ, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (পিইউএনএবি) সেক্রেটারি তানজিমুল ইসলাম, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আনম আয়াশ এবং বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নোমান বিন নুরুল ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাকছুদুর রহমান, রেভুলেশন ওয়াচের হেড অব কমিউনিকেশনস আব্দুর রহমান রাকিব, মঞ্চ ২৪ এর সংগঠক আসিফ আদনান, ইশরাত করিম অর্পিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।