ইতালি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইতালি ভিসা কেলেঙ্কারি: দুই বাংলাদেশি দালালের কারাদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইতালির বহুল আলোচিত কাজের ভিসা জালিয়াতি কেলেঙ্কারিতে দুই বাংলাদেশি দালাল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। রায়ে নজরুল ইসলামকে ৪ বছর ৮ মাস এবং কাজি শামিমকে ৪ বছর ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ‎অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় সাজা নিশ্চিত হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্রের ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র। ইতালিতে কাজের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত আদায় করা হতো। ‘নুল্লা ওস্তা’ (Nulla Osta) সংগ্রহের জন্য ইতালীয় কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা ৪–৫ হাজার ইউরো নিতেন। ফাইল দ্রুত ছাড়ানোর জন্য প্রিফেকচার বা পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রায় ৩০০ ইউরো পর্যন্ত ঘুষ দেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।

শুধু নগদ অর্থ নয়-দামি ঘড়ি, টেলিভিশন, গাড়ি এমনকি দুবাই ভ্রমণের মতো বিলাসবহুল সুবিধাও ঘুষ হিসেবে দেওয়া হত বলে অভিযোগ রয়েছে।

দূতাবাসে ঘুষের অভিযোগ

নজরুল ইসলামের জবানবন্দিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালে ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাস-এর কর্মী নিকোলা মুসকাতেল্লোর জন্য ১০ হাজার ইউরো নগদ ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ৪০টি ভিসা অনুমোদনের জন্য মোট ৩০ হাজার ইউরো চুক্তির কথাও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দূতাবাসের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সংসদ সদস্যকে ঘুষের চেষ্টা, তদন্তের সূত্রপাত

ইতালির সংসদ সদস্য আন্দ্রেয়া দি জুসেপ্পে-কে প্রায় ২০ লাখ ইউরো ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় ব্যাপক তদন্ত, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ভিসা জালিয়াতি চক্রকে প্রকাশ্যে আনে।

তদন্ত অব্যাহত

আদালতে দোষ স্বীকারের পর নজরুল ইসলাম ও কাজি শামিমের সাজা ঘোষণা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ইতালীয় কর্মকর্তা ও অসাধু মালিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান। ইতালির বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে মামলাটি দেখা হচ্ছে।

প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

এই কেলেঙ্কারিতে ইতালিতে কাজের ভিসা পাওয়ার আশায় হাজারো প্রবাসী বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক দালাল চক্র, অসাধু নিয়োগকর্তা ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে ইতালির ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি আরোপ হতে পারে। প্রবাসপ্রত্যাশীদের অবৈধ দালাল ও প্রতারণার ফাঁদে না পড়তে এটি একটি সতর্কবার্তা। দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ভিসা নেওয়া আইনি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবসময় সরকারি ও বৈধ পদ্ধতিতে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়।

কালবেলা/এআই
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ১৯৭ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে

মাতামুহুরীতে রাতের আঁধারে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

টিভিতে আজ যত খেলা

নাটোরে ডিঙি নৌকা তৈরির ধুম

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ৪ বিভাগে ‘অতি ভারী’ বৃষ্টির পূর্বাভাস

আজকের নামাজের সময়সূচি

বিচার না পেয়ে সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারে বৃদ্ধ ফুকন মিয়া

বেড়ায় স্কুল ফিডিংয়ে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ

১০

দখল-লিজে বিলীন চকরিয়া-সুন্দরবন

১১

ফকিরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

১২

কর্মস্থল ঢাকায়, বেতন শান্তিগঞ্জে: ‘কর্তৃপক্ষের’ কলমের খোঁচায় সেবা বঞ্চিত রোগীরা

১৩

ভাইরাসের আক্রমণে ক্ষেতেই পচছে আখ, লোকসানের শঙ্কায় টাঙ্গাইলের কৃষক

১৪

অনিয়মের অভিযোগে সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিলেন এলাকাবাসী

১৫

বাবার অসুস্থতার কথা বলে ৭ বছরের শিশুকে অপহরণ, চাচাসহ গ্রেপ্তার ৩

১৬

আমরা চলছিলাম মদিনার দিকে, হঠাৎ দেখি কাফেলা যাচ্ছে আমেরিকার দিকে: মুফতি ফয়জুল করিম

১৭

হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ, আতঙ্কে উপকূলবাসী

১৮

নির্মাণের এক মাস না যেতেই সড়কে গর্ত, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

১৯

নাচোলে টিসিবির গুদামে আগুন, নেভাতে গিয়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

২০
X