ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মহিলা মাদ্রাসা সংস্কারে সাধারণ আলেম সমাজের ১০ দফা

সাধারণ আলেম সমাজ
সাধারণ আলেম সমাজের লোগো | ছবি : সংগৃহীত

দেশের মহিলা মাদ্রাসাগুলোর সংস্কার ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ দফা ‘দিকনির্দেশনা’ পেশ করেছে তরুণ আলেমদের প্লাটফরম সাধারণ আলেম সমাজ। রোববার (৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ১০ দফা তুলে ধরে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে মহিলা মাদ্রাসাগুলোর ভূমিকা অপরিসীম, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা পুরো আলেমসমাজ ও মাদ্রাসাশিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গুটিকয়েক ব্যক্তির অনৈতিকতা ও জবাবদিহিতার অভাবে এই পবিত্র অঙ্গনগুলো কলঙ্কিত হতে পারে না।

এসব বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংগঠনটি ১০ দফা ‘দিকনির্দেশনা’ প্রদান করেছে।

১. অনুমোদন ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা

যত্রতত্র অননুমোদিত মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা বন্ধ করতে হবে। যারা নতুন মাদ্রাসা করতে চান, তাদের স্বীকৃত কোনো শিক্ষাবোর্ড (যেমন: বেফাক বা আঞ্চলিক বোর্ড) থেকে প্রাক-অনুমোদন নিতে হবে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদারকির অধিকার থাকতে হবে, যাতে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে বা খেয়াল-খুশিমতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে না পারে।

২. শক্তিশালী পরিচালনা কমিটি গঠন

প্রতিটি মহিলা মাদ্রাসায় (তা ভাড়া বাড়িতে হোক বা নিজস্ব জায়গায়) একটি শক্তিশালী পরিচালনা কমিটি থাকতে হবে। এই কমিটিতে স্থানীয় বিজ্ঞ আলেম, দ্বীনদার শিক্ষিত ব্যক্তি এবং সচেতন অভিভাবকদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। পরিচালক একক সিদ্ধান্তে সব পরিচালনা করবেন, এই প্রথা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

৩. আবাসিক ব্যবস্থার কঠোর নীতিমালা

ভাড়া করা সংকীর্ণ বাড়িতে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ পরিবেশ ও প্রশস্ত জায়গা না থাকলে আবাসিকের অনুমোদন দেওয়া যাবে না। অনাবাসিক মাদ্রাসাকে উৎসাহিত করতে হবে এবং আবাসিক ছাত্রীদের ক্ষেত্রে নারী পরিদর্শক ও নেগরানির মাধ্যমে তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

৪. বোর্ডভিত্তিক তদারকি ও অভিযোগ সেল

শিক্ষাবোর্ডগুলোতে ‘মহিলা মাদ্রাসা অনুবিভাগ’ নামে স্বতন্ত্র বিভাগ থাকতে হবে। নারী শিক্ষক বা ছাত্রীরা যাতে পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারে, সেজন্য ডেডিকেটেড হটলাইন চালু করতে হবে। প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

৫. শিক্ষক নিবন্ধন ও ব্ল্যাকলিস্ট পদ্ধতির প্রচলন

সব শিক্ষক-শিক্ষিকার কেন্দ্রীয় নিবন্ধন থাকতে হবে। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও চারিত্রিক বিচ্যুতি প্রমাণিত হলে তার নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। তাকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে, যাতে তিনি দেশের আর কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষকতার সুযোগ না পান।

৬. পরিচালকের দায়বদ্ধতা ও কঠোর শাস্তি

কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা তার প্রশ্রয়ে কোনো অপরাধ ঘটলে তাকে আজীবনের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ‘আড়ালে আপস’ করা যাবে না; বরং অভিযুক্তকে রাষ্ট্রীয় আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৭. সিলেবাসে ব্যবহারিক শিক্ষার সংযোজন

নারীদের জন্য উপযোগী দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি সিলেবাসে গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, প্রাথমিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, আত্মরক্ষা এবং হস্তশিল্পের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের অধিকার ও সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।

৮. জবাবদিহিতা ও অডিট ব্যবস্থা

প্রতিটি মাদ্রাসার আয়-ব্যয় এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের বার্ষিক অডিট ও প্রতিবেদন বোর্ডে জমা দিতে হবে। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আচরণের ওপর নজর রাখার জন্য অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত জ্যেষ্ঠ আলেমদের সমন্বয়ে একটি ‘গোপন তদারকি টিম’ গঠন করা যেতে পারে।

৯. অভিভাবকদের সচেতনতা

সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেই অভিভাবকদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ছাত্রীদের মতিগতি লক্ষ্য করা এবং নিয়মিত মাদ্রাসার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের আবাসিকে না রাখাই শ্রেয়।

১০. আলেমসমাজের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান

অপরাধী যে-ই হোক, দাড়ি-টুপি কিংবা বড় আলেমের দোহাই দিয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। ইসলামের বিধান অনুযায়ী তাকওয়ার পাশাপাশি শাস্তির ভয়ও থাকতে হবে। আলেমসমাজকেই প্রথম সোচ্চার হতে হবে, যাতে কোনো পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কারণে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা বা আলেমসমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘আলফা’র প্রশংসায় প্রভাস, ভরসা আলিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প

ছয়-সাত ভাষায় গান গাই, জানালেন লুইপা

জাতিসংঘের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে নিজেকে শেষ করলেন এক ব্যক্তি

বদলে যাচ্ছে ২০০৬ সালের ভিসা নীতি

জনসম্মুখে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন উন্মোচন

দুই গোল খেয়ে সুইস-ঝড়ে বিপর্যস্ত আলজেরিয়া

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোটগ্রহণ শুরু

সতীর্থদের সঙ্গে তল্লাশির মুখে মেসিও, ব্যাগ থেকে লাইটার নিয়ে গেল পুলিশ

ফরিদপুরে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, মারা গেল ৪ জন

১০

গভীর রাতে সড়কে ঝরল ২ যুবকের প্রাণ

১১

বগুড়ায় ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার গ্রেপ্তার

১২

সুমাইয়ার কান্না থামাবে কে? 

১৩

পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে তৈরি হচ্ছে শেড, শৃঙ্খলায় থাকছে স্কাউট-বিএনসিসি 

১৪

ছুটির দিনে দেশে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

১৫

জয়ের পর ২১ নম্বর জার্সি তুলে রোনালদোর আবেগঘন শ্রদ্ধা

১৬

নিজের অর্থ-সম্পদ দেখভাল করেন ছেলে এরিক, দাবি ট্রাম্পের

১৭

রাবিতে আবাসিকতা বাতিলের পরেও হলে থাকেন হল সংসদের ২ নেতা

১৮

বাবার কাঁধে চড়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে আফিয়া

১৯

টানা ৩০ মিনিটের বেশি বসে থাকলেই বাড়তে পারে ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি

২০
X