শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

থ্যালাসেমিয়ার ভয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করা যাবে কি

থ্যালাসেমিয়া
থ্যালাসেমিয়ার মতো কিছু বংশগত রোগ আমাদের সমাজে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে | ছবি: সংগৃহীত

সন্তান প্রতিটি দম্পতির কাছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অমূল্য নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ উপহার। একটি সুস্থ-সুন্দর ফুটফুটে সন্তানের স্বপ্ন বুনেই প্রতিটি বাবা-মা আগামীর দিনগুলো সাজান। কিন্তু বর্তমান সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে থ্যালাসেমিয়ার মতো কিছু বংশগত রোগ আমাদের সমাজে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন জানা যায় যে, স্বামী এবং স্ত্রী উভয়েই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বা এই রোগের বাহক, তখন অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা।

চিকিৎসকদের মতে, এমন দম্পতির অনাগত সন্তানের এই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত একটি শিশুর সারা জীবনের অবর্ণনীয় কষ্ট, বারবার রক্ত নেওয়া এবং বাবা-মায়ের অন্তহীন ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অনেক পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক দম্পতির মনে এক বড় প্রশ্ন ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, ‘অনাগত সন্তানের অসীম কষ্টের কথা বিবেচনা করে কি গর্ভপাত করা সম্ভব? ইসলামি শরিয়াহ কি এমন বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ছাড় দেয়, নাকি এটি কোনোভাবেই বৈধ নয়?’ এই সংবেদনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়টি নিয়ে ইসলামের সুষ্পষ্ট দিকনির্দেশনা জানা এখন সময়ের দাবি।

নিছক আশঙ্কার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নয়

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কেবল সন্দেহ বা সাধারণ আশঙ্কার ভিত্তিতে গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করা বা ফেলে দেওয়া জায়েজ নয়। সন্তান মহান আল্লাহর দান, তাই কেবল অনাগত ভবিষ্যতের ভয়ে কোনো প্রাণ নাশ করা সমর্থনযোগ্য নয়।

কখন এবং কোন শর্তে অনুমতি থাকতে পারে?

শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, যদি বিষয়টি কেবল সন্দেহ না হয়ে বরং চিকিৎসাগতভাবে প্রমাণিত হয় এবং প্রবল আশঙ্কা থাকে যে, সন্তানটি থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মাবে, তবে কিছু বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে মূল বিষয়গুলো হলো:

  • ভয়াবহ কষ্টের আশঙ্কা: যদি এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, সন্তানটি জন্ম নিলে সে নিজে চরম ভোগান্তির শিকার হবে এবং তার লালন-পালন বাবা-মায়ের জন্য স্থায়ী ও বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে ।
  • সময়ের সীমাবদ্ধতা: গর্ভস্থ সন্তানের বয়স যদি খুব অল্প হয় (যেমন ৪৫ দিন), যখনও শরীরে হার্টবিট আসেনি বা রুহ (প্রাণ) সঞ্চার হয়নি, তবেই কেবল বিশেষ প্রয়োজনে এটি বিবেচনার সুযোগ থাকে।

কঠিন শর্ত

মনে রাখতে হবে, এটি সাধারণ কোনো অনুমতি নয়; বরং অত্যন্ত কঠিন শর্ত সাপেক্ষে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুনিশ্চিত মতামতের ভিত্তিতেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বপ্নভঙ্গের খতিয়ান: বাল্যবিয়ের বিষ-ছোবলে লাখো ছাত্রী

আনোয়ার ইস্পাতের আয়োজনে বুয়েটে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

স্থানীয় সরকারে ভোট দিতে ভোটার হওয়ার শেষ সময় ৩১ জুলাই

শাশুড়িকে হত্যার পর গোপনে দাফন, পুত্রবধূর স্বীকারোক্তিতে রহস্য ফাঁস

বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল ২ ভাইয়ের

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

এইচএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ভুয়া পরীক্ষার্থী আটক

পাবিপ্রবির নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

৯ দিন আত্মগোপনে থাকার পর ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

ম্যারাডোনা থেকে মেসি: বাংলাদেশে কেন আর্জেন্টিনার ফুটবল নিয়ে এত উন্মাদনা

১০

রিজার্ভ আরও বাড়ল

১১

রাকিবের ‘ঘৃণার’ পর জুলাই নিয়ে বক্তব্য সম্পর্কে যা বললেন নিলোফার মনি

১২

মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান জিরো টলারেন্স: গয়েশ্বর

১৩

লাল কার্ডের যে তালিকায় সবার ওপরে ব্রাজিল

১৪

রাত পোহালেই শিল্পী সমিতির ভোট, মুখোমুখি দুই প্যানেল

১৫

স্কুল ফিডিংয়ে ‘নষ্ট খাবার’ দিল ঠিকাদার, শোকজ খেলেন প্রধান শিক্ষক!

১৬

আজীবন বিএনপি করে মরতে চান নরসিংদী জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা

১৭

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার দিনে অন্তত ২১ হাজার শিশু নিহত

১৮

যুবককে বুকে ঘুষি দিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক ১

১৯

নতুন ভিসানীতির অনুমোদন

২০
X