ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাপ্লাইয়ের পানি কি পবিত্র, এটা দিয়ে অজু ও গোসলের বিধান কী?

সাপ্লাইয়ের পানি কি পবিত্র
প্রতীকী ছবি

রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরজীবনে আমরা যারা বসবাস করি, তাদের নিত্যদিনের পানির প্রধান উৎস হলো ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি বা সাপ্লাইয়ের পানি। অনেক সময় দেখা যায়, কলের পানি ছাড়লে তাতে এক ধরনের বিকৃত গন্ধ বা অস্বাভাবিক রং অনুভূত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, এই পানি কি পবিত্র? এটি দিয়ে অজু বা গোসল করলে কি পবিত্রতা অর্জন হবে?

শরিয়তের মূলনীতি এবং নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জানিয়েছেন ইসলামি স্কলার মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফীইউটিউবে প্রকাশিত তার আলোচনাটি কালবেলার পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো।

ইসলামি শরিয়ার মূলনীতি: নিশ্চিত অবস্থা বনাম সংশয়

ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো, কোনো জিনিসের মৌলিক অবস্থা যদি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে, তবে সুনিশ্চিত কোনো প্রমাণ ছাড়া তার বিপরীতটা সাব্যস্ত করা যাবে না। আমরা জানি যে, সিটি কর্পোরেশন বা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ যে পানি সরবরাহ করে, তাতে সাধারণত কোনো নাপাক বা অপবিত্র জিনিসের সংমিশ্রণ থাকে না। কর্তৃপক্ষ আমাদের পাক-পবিত্র পানি দেওয়ার জন্যই কাজ করে। সুতরাং, যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো অপবিত্রতার প্রমাণ না পাওয়া যায়, ততক্ষণ এই পানিকে পাক হিসেবেই গণ্য করতে হবে।

পানির বিকৃতি ও তার কারণ

পানির গন্ধ বা রঙের বিকৃতি ঘটলে দুটি বিষয় লক্ষ্য করতে হবে:

  • ১. নাপাক বস্তুর সংমিশ্রণ: যদি তথ্য-প্রমাণ বা নিশ্চিত সূত্রের মাধ্যমে জানা যায় যে, পানির এই বিকৃতি কোনো নাপাক বা অপবিত্র বস্তুর (যেমন: ড্রেনের ময়লা বা মলমূত্র) সংমিশ্রণের কারণে ঘটেছে, তবে সেই পানি পান করা, ব্যবহার করা বা তা দিয়ে অজু-গোসল করা জায়েজ হবে না।
  • ২. পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণ বা অজ্ঞাত কারণ: যদি পানিতে কোনো পবিত্র জিনিস মেশানো হয় (যেমন: পানি শোধনের জন্য ব্যবহৃত ক্লোরিন বা ওষুধ) এবং তার কারণে গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন ঘটে, তবে পানি অপবিত্র হবে না। আবার যদি বিকৃতির কারণ নিশ্চিতভাবে জানা না যায়, তবে পানির পূর্বের অবস্থাকে (পবিত্রতা) প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থাৎ সংশয় বা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পানিকে নাপাক বলা যাবে না।

অজু ও গোসলের বিধান

সাপ্লাইয়ের পানিতে সাধারণ কোনো গন্ধ বা শৈবাল-জাতীয় বিকৃতি থাকলেও তা দিয়ে অজু ও গোসল করলে শরিয়ত অনুযায়ী পবিত্রতা অর্জিত হবে। নির্ভার হয়ে এই পানি ব্যবহার করতে কোনো বাধা নেই। তবে যদি দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র হয় যে, পানি নাপাক হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে বা দৃশ্যমান কোনো নাপাক বস্তু দেখা যায়, তবে সতর্কতা হিসেবে সেই পানি পরিহার করাই শ্রেয়।

কালবেলা/এটিআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫৬তম জন্মদিন আজ

এবার সিরিজসেরা হয়েও বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন সূর্যবংশী

ইবিতে ভর্তি জালিয়াতি, ছাত্রত্ব ছাড়াই এক সেমিস্টার ক্লাস-পরীক্ষা দিলেন ‘তরুণী’

গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে বাপেক্সের জন্য আসছে আরও দুটি আধুনিক রিগ

আল ওয়াহদাহ ফাউন্ডেশনের ফ্রি কুরআন বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

পয়ঃনিষ্কাশনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, গাজীপুর সিটির ৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

মহিপালে যুবলীগ নেতা রুবেল হাজারী গ্রেপ্তার

সিলেটে শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরাল: ‘গান গাওয়া অন্যায় নয়’, বললেন প্রতিমন্ত্রী

একদিকে তদন্ত, অন্যদিকে প্রশংসা— আর্জেন্টিনাকে নিয়ে নতুন বিতর্কে ফিফা সভাপতি

ট্রাকচাপায় পথচারী নিহত, সড়ক অবরোধে ৭ কিলোমিটার যানজট

১০

পাউরুটিতে ক্যানসারের উপাদান, পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে রিট

১১

ছেলের টর্চলাইটের আঘাতে বাবার মৃত্যু

১২

ফিলিস্তিনের দুটি মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ

১৩

বিচার ও সংস্কারে কোনো আপস করবে না এনসিপি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১৪

মশাল মিছিলের সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৩ কর্মী গ্রেপ্তার

১৫

বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে নারীর বস্তাবন্দি কংকাল

১৬

রক্ত, কারাগার আর রাজপথ: ফ্যাসিবাদের দিনলিপি

১৭

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা, হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ নিহত ২

১৮

বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই ক্লাব ফুটবলেও বড় ধাক্কা রোনালদোর!

১৯

স্বামীর ওপর অভিমানে প্রাণ দিলেন নববধূ

২০
X