

দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের শিরোপা জিতেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। লিগের শেষ দিনে আবাহনী লিমিটেডকে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৬৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহী দলটি। ২০০৯-১০ মৌসুমের পর দেশের ক্লাব ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে এটিই মোহামেডানের প্রথম শিরোপা। দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত এই জয়ের পর ক্লাব থেকে মোটা অঙ্কের বোনাসও পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। এছাড়াও সংবর্ধনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ক্লাবটি।
শিরোপা জয়ের আনন্দকে আরও বিশেষ করে তুলতে খেলোয়াড়দের জন্য ৭০ লাখ টাকা বোনাস ঘোষণা করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। খেলা শেষে আনন্দঘন পরিবেশে খেলোয়াড়রা ক্লাবে যান এবং সেখানেই তাদেরকে বোনার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্লাবটি। পাশাপাশি শিগগিরই চ্যাম্পিয়ন দলকে সংবর্ধনা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে।
শুক্রবার বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রীতিমতো রানের পাহাড় গড়ে মোহামেডান। ওপেনার নাঈম শেখ দ্রুত ফিরে গেলেও দ্বিতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমন ও এনামুল হক বিজয়ের ২৪৮ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুজনই তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি।
বিজয় ১১৫ বলে ১১ চার ও ৯ ছক্কার সাহায্যে ১৪১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে ইমন ১১৬ বলে ১০ চার ও ১২ ছক্কায় করেন ১৫০ রান। এছাড়া আফিফ হোসেন ধ্রুব ৩৩ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। শেষদিকে আনিসুল ইসলাম ১৬ বলে অপরাজিত ৩০ রান করে দলকে নিয়ে যান ৪ উইকেটে ৪০৬ রানের বিশাল সংগ্রহে, যা লিগের এবারের সর্বোচ্চ ইনিংস।
৪০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে আবাহনী। ওপেনার অনিক সরকার একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান। তবে জিসান আলম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনসহ শীর্ষ ব্যাটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি তিনি। অনিক ৬৪ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৫ রানে অপরাজিত থাকেন। সাব্বির রহমানও ২২ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
তবে ২৪.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করার পর বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও আর মাঠে বল গড়ায়নি। ফলে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৬৩ রানের জয় পায় মোহামেডান।
একই সময়ে অন্য মাঠে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের পরাজয়ের ফলে মোহামেডানের শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। লিগ পর্বের ১১ ম্যাচ শেষে ৯ জয় থেকে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। সমান ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী লিমিটেড ও প্রাইম ব্যাংক লিগ শেষ করলেও হেড-টু-হেড বিবেচনায় রানার্স-আপ হয়েছে আবাহনী।
১৭ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে দেশের ক্লাব ক্রিকেটের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি আবারও ফিরল মোহামেডানের ঘরে। আর সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে খেলোয়াড়দের জন্য ৭০ লাখ টাকার বিশেষ বোনাস ঘোষণা করেছে ক্লাবটি। শিগগিরই চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনাও দেওয়া হবে।