

ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁসের গুজব ও প্রতারণা ঠেকাতে দেশটিতে টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।
ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের প্রতারণার জন্য টেলিগ্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট ও সীমিত সময়ের জন্য ভারতে টেলিগ্রামের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি ধারা মতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই ধারা অনুযায়ী, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার স্বার্থে সরকার কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখতে পারে।
এদিকে এক বিবৃতিতে এনটিএ জানায়, তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে ভারতের বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটিওয়াই) ২২ জুন পর্যন্ত দেশটিতে টেলিগ্রাম ব্যবহারে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এছাড়া ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের বার্তা সম্পাদনা সুবিধাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনটিএর দাবি, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র টেলিগ্রাম ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের ভুয়া দাবি ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ড ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এনটিএ জানিয়েছে, টেলিগ্রামের বার্তা সম্পাদনা সুবিধা ব্যবহার করে পরীক্ষার পর ভুয়া প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ তৈরি করা হচ্ছিল।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু চ্যানেলের এডমিন পুরোনো পোস্ট সম্পাদনা করে পরে সেখানে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংযুক্ত করতেন, অথচ পোস্টের মূল সময় অপরিবর্তিত থাকত। পরে সেই পোস্টকে পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা হতো।
এনটিএর মতে, সাময়িকভাবে এই সুবিধা বন্ধ রাখলে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো কঠিন হবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (আইফোরসি) টেলিগ্রামভিত্তিক প্রতারণা ও গুজব মোকাবিলায় সমন্বয় করছে। ইতোমধ্যে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে পরিচালিত একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেল ও স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।
এনটিএ আরও জানায়, বিহার পুলিশ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। অন্যদিকে আহমেদাবাদ সিটি সাইবার ক্রাইম শাখা এক আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটি প্রায় দেড় কোটি রুপির লেনদেন এবং এক মাসে প্রায় এক হাজার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেছে।
সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কিছুটা অসুবিধা হতে পারে বলে স্বীকার করলেও সংস্থাটি বলেছে, ২২ জুনের পর টেলিগ্রাম ব্যবহারের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। তবে বার্তা সম্পাদনা সুবিধা ৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
পরীক্ষার্থীদের কেবল এনটিএর সরকারি ওয়েবসাইট ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি যেকোনো প্রতারণামূলক যোগাযোগের বিষয়ে সাইবার অপরাধ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি