মৃধা আলাউদ্দিন
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হার্ভার্ড থেকে ফিরে : সুযোগ, সিস্টেম ও গাইডেন্সের নতুন ভাবনা

আসিফ মোক্তাদির। ছবি : সংগৃহীত
আসিফ মোক্তাদির। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রতিভার অভাব নেই- অভাব আছে দিকনির্দেশনার। এই একটি বাক্যই যেন বারবার ফিরে আসে দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর গল্পে। কেউ জানে না কোথা থেকে শুরু করতে হবে, কেউ জানে না কোথায় পৌঁছাতে পারে। ঠিক এই জায়গাটাতেই হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছেন এক তরুণ স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, যিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক হেলথ পলিসি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন।

তার কাছে হার্ভার্ড কোনো গন্তব্য নয়- বরং একটি টুল। একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখান থেকে পাওয়া জ্ঞান, নেটওয়ার্ক এবং নীতি-চিন্তাকে তিনি ফিরিয়ে আনতে চান বাংলাদেশের মাটিতে, বাস্তব পরিবর্তনের লক্ষ্যে।

সমস্যার গভীরতা : মোটিভেশন নয়, মিসিং সিস্টেম

বাংলাদেশে ক্যারিয়ার গাইডেন্স নিয়ে কাজ অনেক হয়েছে- কিন্তু বেশিরভাগই সীমাবদ্ধ থেকেছে মোটিভেশনাল বক্তব্যে। বাস্তবতা হলো, একজন শিক্ষার্থী শুধু ‘তুমি পারবে’ শুনে এগোয় না- তার দরকার স্পষ্ট পথ, স্কিল শেখার সুযোগ, আর ধারাবাহিক গাইডেন্স।

এই গ্যাপ থেকেই জন্ম ‘ACHIEVE’-এর। তবে এটিকে তিনি কোনো এনজিও বা স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন না- বরং একটি সিস্টেম-লেভেল ইন্টারভেনশন হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

ক্লাসরুমে ঢুকে পড়বে ক্যারিয়ার গাইডেন্স

‘ACHIEVE’-এর সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাগুলোর একটি হলো একটি জাতীয় পর্যায়ের ‘Career Readiness Framework’ তৈরি করা। লক্ষ্য- ক্যারিয়ার গাইডেন্সকে স্কুলের বাইরে নয়, বরং ভেতরে নিয়ে আসা।

এই ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা অষ্টম বা নবম শ্রেণি থেকেই বুঝতে শুরু করবে- কোন ফিল্ডে যেতে চায়, কী স্কিল প্রয়োজন এবং কীভাবে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেরাই এই গাইডেন্স ক্লাসরুমে পৌঁছে দিতে পারেন।

এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে- যেখানে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা আর ‘শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত’ থাকবে না।

ডেটা ছাড়া পরিবর্তন অসম্ভব

এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- ডেটা-ড্রিভেন অ্যাপ্রোচ। ‘ACHIEVE’-এর অধীনে একটি রিসার্চ ও পলিসি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যাগুলোকে পরিমাপযোগ্য ডেটায় রূপ দেবে।

কোন স্কিল সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে? কোন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা গ্লোবাল সুযোগ থেকে সবচেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন?- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করে সেই অনুযায়ী নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব ফেলাই লক্ষ্য।

এটি মূলত হার্ভার্ডে শেখা পলিসি থিংকিংয়েরই একটি বাস্তব প্রয়োগ।

‘একজন থেকে হাজারজন’ : ফেলোশিপ মডেল

দেশজুড়ে দ্রুত স্কেল করার জন্য তিনি একটি ফেলোশিপ প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘ACHIEVE Fellow’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে- যারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মেন্টর করবে।

এই মডেলের শক্তি এর এক্সপোনেনসিয়াল গ্রোথে। একজন ফেলো যদি বছরে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে গাইড করে, আর এমন হাজার ফেলো তৈরি হয়- তাহলে প্রভাবের পরিধি কল্পনাতীত।

সীমান্ত পেরিয়ে মেন্টরশিপ

বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় শুধু এই কারণে যে তারা জানে না কীভাবে শুরু করতে হবে। এই সমস্যার সমাধানে তৈরি করা হবে একটি গ্লোবাল মেন্টরশিপ নেটওয়ার্ক।

বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা যুক্ত হবেন এই প্ল্যাটফর্মে, যেখানে একজন শিক্ষার্থী সরাসরি এমন কারো সাথে কথা বলতে পারবে, যিনি ইতোমধ্যে সেই পথ অতিক্রম করেছেন।

এটি শুধু তথ্য নয়- আত্মবিশ্বাস তৈরি করারও একটি মাধ্যম।

প্রযুক্তি : স্কেলের চাবিকাঠি

সবকিছু অফলাইনে সীমাবদ্ধ রাখলে এই উদ্যোগ বড় হতে পারবে না- এই বাস্তবতা মাথায় রেখে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্ল্যাটফর্মে থাকবে ক্যারিয়ার গাইডলাইন, স্কলারশিপ তথ্য, SOP লেখার গাইড, এমনকি রেকর্ডেড কোর্স- যাতে দেশের যে কোনো প্রান্তের শিক্ষার্থী সমানভাবে অ্যাক্সেস পায়।

স্বাস্থ্যখাতেও সমান্তরাল কাজ

শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায়ও তিনি কাজ করছেন ‘Referral Assist’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে, যা রোগীদের জন্য স্পেশালিস্ট অ্যাক্সেস সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। এটি ক্লিনিক লেভেলে স্কেল করার পরিকল্পনা রয়েছে- যাতে ভাষাগত বা সিস্টেমগত বাধা কোনো রোগীর চিকিৎসার পথে বাধা না হয়।

স্বপ্ন থেকে আন্দোলন

এই পুরো ভিশনের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট- এটি শুধু ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। এটি একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা।

‘একজন শিক্ষার্থী এগোলে এগিয়ে যায় পুরো দেশ’- এই বিশ্বাস থেকেই শুরু। আর সেই অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে তিনি একসাথে ৩টি জিনিস গড়ে তুলতে চান- সুযোগ, সিস্টেম এবং গাইডেন্স।

শেষ পর্যন্ত, এটি হয়তো একজনের গল্প না- বরং একটি প্রজন্মের গল্প হয়ে উঠতে পারে।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কারও কাছে মাথা নত করতে রাজনীতি করি না: খোরশেদ আলম

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল তিন দিনের রিমান্ডে

মহিলা কলেজে চাকরি করায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা

নারীকাণ্ডে বহিষ্কার এমপি নজরুলের বিষয়ে যে তথ্য জানালেন ইসি আনোয়ারুল

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের নৌ অবরোধ, নিন্দা জানাল ঢাকা

টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

ফাইনালে কেমন ছিল রেফারিং? এবার মুখ খুললেন মেসিদের কোচ

‘বহিষ্কার’ আর ‘পদত্যাগ’ এক নয়, গাজী নজরুলকে নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার 

ভিডিওকাণ্ডে জামায়াত নেতা দল থেকে বহিষ্কার, শ্যামনগরে মিষ্টি বিতরণ

১০

ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাইল পাকিস্তান

১১

চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বার্তা

১২

ইসলামে নৈতিক স্খলনের শাস্তি কী?

১৩

জাল টাকার মামলায় হাজিরা দিতে এসে জাল নোটসহ ফের গ্রেপ্তার

১৪

এমপি নজরুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা চালকের, একজন কারাগারে

১৫

কিস্তি ক্রেতা স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রীকে ওয়ালটন প্লাজার লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা

১৬

‘অন্য সবকিছু ভুলে যাও’ কেন বলেছিলেন মেসি, জানাল আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম

১৭

ইউপি নির্বাচনের সময় জানালেন মন্ত্রী

১৮

শিল্পকলায় চার দিনব্যাপী বাঁশরী নজরুল নাট্যোৎসব

১৯

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

২০
X