

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অফিসের বেঁচে যাওয়া চা-পাতা ও কয়েকটি বিস্কুট নেওয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এক পিওনকে। তবে পরবর্তীতে তাকে আবারও চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দ্য ইকোনমিক টাইমস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঝাড়খণ্ডের বোকারোর জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থায় চুক্তিভিত্তিক পিওন হিসেবে ২০০৫ সালে যোগ দেন রণজিৎ কুমার হিমানশু। প্রায় ১৭ বছর পর, ২০২২ সালের মার্চে তাকে একটি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তিনি অফিস থেকে অনুমতি ছাড়া ‘কিছু সামগ্রী’ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিয়ে গেছেন। তবে ওই নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি ঠিক কী সেই সামগ্রী।
পরে ২০২২ সালের মে মাসে তার চাকরি বাতিল করা হয়। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হলে প্রথমে তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে তিনি ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেন।
শুনানিতে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, কথিত ‘সামগ্রী’ ছিল মূলত অফিসের অবশিষ্ট চা-পাতা ও কয়েকটি বিস্কুট, যা তিনি পরে ফেরতও দেন।
আদালত জানান, চাকরিচ্যুতির আদেশে কোনো যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ ছিল না। আবেদনকারীর জবাবও বিবেচনা করা হয়নি। প্রায় দুই দশকের চাকরির বিষয়টিও উপেক্ষিত ছিল।
আদালত আরও জানান, হিমানশুর বিরুদ্ধে আগে কখনো এমন অভিযোগ ওঠেনি এবং একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার কাজের প্রশংসাপত্রও দিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হয়নি।
রায়ে হাইকোর্ট তাকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন এবং ১ জুলাইয়ের মধ্যে চাকরিতে ফিরিয়ে নিতে বলে। পাশাপাশি প্রায় চার বছরের বকেয়া বেতনের ৫০ শতাংশ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।