কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

এত আত্মবিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ইরানের কৌশল নিয়ে সম্প্রতি তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ এ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম তেহরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই দৃষ্টিভঙ্গি নতুন নয়। তবে এতে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা চোখে পড়ার মতো। প্রতিবেদনে একটি ধাপে ধাপে যুদ্ধ কৌশলের কথা বলা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্য হলো সরাসরি বিজয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য যুদ্ধের খরচ অসহনীয় করে তোলা।

টিকে থাকাকেই বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান

ইরানের কৌশলের মূল ভিত্তি হলো ‘সহনশীলতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি’। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের আঘাত সহ্য করা, আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটিকে প্রকৃত বিজয় বলা যায় না।

ইরান যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থার টিকে থাকাকেই জয় হিসেবে তুলে ধরে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধলক্ষ্য তুলনামূলকভাবে সীমিত। ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্দেশ্য সাধারণত প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ও পারমাণবিক বিস্তার ঠেকানো। কোনো দেশ দখল করা বা সরকার উৎখাত করা নয়।

এই ভিন্ন মানদণ্ডের কারণে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যেখানে ইরান অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও কূটনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়লেও নিজ দেশে বিজয়ের ঘোষণা দিতে পারবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এ ধরনের ঘোষণার তেমন কোনো মূল্য থাকে না বলে মত বিশ্লেষকদের।

তাদের মতে, ইরানের এই বয়ান মূলত অভ্যন্তরীণ জনমত ধরে রাখার কৌশল। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে গেলে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি হবে বহুগুণ বেশি।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাত বাড়িয়ে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। এ কারণেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের।

কালবেলা/পিআর/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা, সফর সংক্ষিপ্ত করে আজই দেশে ফিরছেন স্পিকার

অবশেষে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

দুর্যোগ তহবিল আটকে দেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

সকালের মধ্যেই ঢাকাসহ ১০ জেলায় হতে পারে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি

ইইউসহ ৬০ বাণিজ্য দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: সিসিক প্রশাসক

সিলেটে বিপৎসীমার কাছাকাছি নদ-নদীর পানি, আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা

রোড রোলার প্রশিক্ষণে সুইডেন সফরের খবর ভিত্তিহীন: চসিক মেয়র

ফাহিমা হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ফের আদালত চত্বরে হামলার চেষ্টা

১০

তদন্ত চলাকালেই বদলি চসিকের আলোচিত সেই প্রকৌশলী দম্পতি

১১

রাতে স্টেডিয়ামে গাঁজা সেবন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড

১২

পরশুরামে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৩

বিডার উদ্যোগে বাস্তবায়নের পথে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ

১৪

কমনওয়েলথ গেমসে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা

১৫

রেল অবরোধে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি, দুঃখ প্রকাশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের

১৬

১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

১৭

গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে চালকরা

১৮

জোড়াতালি দিয়ে চলছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা

১৯

চকরিয়ায় বন্যায় সড়ক বিধ্বস্ত, ক্ষতি প্রায় ৩২ কোটি টাকা

২০
X