

তুরস্ক ও ওমানে সম্প্রতি হামলার যে ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে ইরান বা তার মিত্রগোষ্ঠীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’ এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ শুক্রবার এক বার্তায় তিনি এই দাবি করেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর ও নওরোজ উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় তিনি এ দাবি করেন। চলতি মাসের শুরুতে বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম নওরোজ ভাষণ। তবে প্রথা ভেঙে ক্যামেরার সামনে না এসে তিনি টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখিত এই বার্তা প্রকাশ করেন।
ইরানি জনগণের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ তাদের পক্ষে উল্লেখযোগ্য গণআন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার পরই এই যুদ্ধ শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামের যোদ্ধাদের উল্লেখযোগ্য বিজয়গুলোর জন্যও সবাইকে অভিনন্দন জানানো প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি জানুয়ারিতে বিদেশি মদদপুষ্ট অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন মোজতবা খামেনি।
ইরানের শত্রুদের কূটচাল ব্যাখ্যা করে তিনি যোগ করেন, শত্রুরা ভেবেছিল তারা যদি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রধান এবং কয়েকজন প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্বকে মেরে ফেলতে পারে, তবে তা জনগণের মধ্যে ভয় ও হতাশা সৃষ্টি করবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং পরবর্তীতে দেশটিকে ভেঙে ফেলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই ছিল তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।’
এই বার্তায় ওমান ও তুরস্কে হামলায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন খামেনি। তিনি বলেন, ‘তুরস্ক ও ওমানের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই দেশগুলোতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরোধ ফ্রন্টের অন্যান্য বাহিনী হামলা চালায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি জায়নবাদী শত্রুর একটি চক্রান্ত, যারা ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশল ব্যবহার করে ইরান ও তার প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। এমন ঘটনা অন্যান্য দেশেও ঘটতে পারে।’
সূত্র: প্রেস টিভি