

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর টানা দশম রাতের মতো ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে। খবর রয়টার্সের।
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের লোরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদের পার্বত্য এলাকায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। খোররামাবাদ শহরের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি স্থাপনায় এ হামলা চালানো হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন দফা হামলা চালায়।
এরই মধ্যে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে সংঘাতের নতুন ফ্রন্ট খুলতে পারে এবং উপসাগরের বাইরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে নাবিকরা জাহাজ ত্যাগ করে লাইফবোটে আশ্রয় নেন।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে চলাচলের সময় বিস্ফোরণের পর দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। তবে ঘটনাগুলো ঠিক কখন ঘটেছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এদিকে, ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি রয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন তিনি।
এ ছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেটের বরাদ্দবিষয়ক কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেবেন। ওই বাজেটে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।