

উচ্চ মূল্য এবং সরবরাহ সংকটের কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ০.৫ শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির তৃতীয় প্রান্তিকের গ্যাস মার্কেট রিপোর্ট-এ বলা হয়েছে, চলতি বছরে বৈশ্বিক গ্যাসের ব্যবহার প্রায় ২০ বিলিয়ন ঘনমিটার (৭০৬ বিলিয়ন ঘনফুট) কমতে পারে। খবর আলজাজিরার।
আইইএর মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাস সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। ফলে দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাত গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি হবে চলতি দশকে বৈশ্বিক গ্যাসের চাহিদা কমার তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ২০২০ এবং ২০২২ সালেও গ্যাসের ব্যবহার কমেছিল।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এশিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। উচ্চ মূল্যের কারণে বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের পরিবর্তে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে।
এদিকে, ইউরোপের টিটিএফ এবং এশিয়ার প্ল্যাটস জেকেএম গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য ২০২২ সালের পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে সর্বোচ্চ গড়ে পৌঁছেছে। ইউরোপে টিটিএফের দাম বছরে ৩২ শতাংশ বেড়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট প্রায় ১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, এশিয়ায় স্পট এলএনজির গড় মূল্য ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট ১৭.৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
আইইএ আরও জানায়, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শান্তিকালীন সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হতো।