

ব্রিটেনের ঐতিহাসিক বিতর্ক সংগঠন অক্সফোর্ড ইউনিয়নে ডানপন্থি নেতা টমি রবিনসনের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামবিষয়ক এক বিতর্কে তার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়।
বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যার দিকে প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’-এর প্ল্যাকার্ড হাতে সেন্ট মাইকেলস স্ট্রিটের দুই প্রান্তে অবস্থান নেন। ওই সড়কেই বিতর্ক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাজুড়ে ব্যারিকেড স্থাপন করা হলে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
এ সময় ইউনিয়ন জ্যাক পতাকা বহনকারী একটি ছোট সমর্থক গোষ্ঠীও সেখানে উপস্থিত ছিল। দুই পক্ষকে আলাদা রাখতে পুলিশ সদস্যরা সড়কে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভ চলাকালে কর্নমার্কেট স্ট্রিটে একটি ছোটখাটো উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটে। সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে দুয়োধ্বনি দেন এবং দু-একজনকে পানির বোতল ছুড়ে মারতে দেখা যায়।
টমি রবিনসনের অক্সফোর্ড ইউনিয়নে অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন নয়। গত ১৬ মে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ সমাবেশে তিনি হাজারো মানুষের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই সমাবেশে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
অক্সফোর্ড স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজমের সহসভাপতি ইয়ান ম্যাককেনড্রিক অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সাউদ্যাম্পটন, বেলফাস্ট ও গ্লাসগোতে সংঘটিত সহিংস বর্ণবাদী দাঙ্গা উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে রবিনসনের ভূমিকা ছিল।
এ বিক্ষোভে অংশ নেন সাবেক কনজারভেটিভ এমপি জ্যাকব রিস-মগ এবং কর্মী আবদুল্লাহ আল আন্দালুসি। সাবেক অভিনেতা লরেন্স ফক্সও রবিনসনের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় রাজনীতিকদের একাংশও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
এদিকে টেমস ভ্যালি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানিয়ে তারা অনুষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, দুই শতাব্দীরও বেশি পুরোনো অক্সফোর্ড ইউনিয়ন বিতর্কিত বক্তাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য পরিচিত। অতীতে ও. জে. সিম্পসন থেকে শুরু করে জেরি অ্যাডামসের মতো ব্যক্তিরাও সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন।