

গাইবান্ধার সাঘাটা বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) রাতে নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়াসহ ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে মুকুল মিয়া প্রধান আসামি।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন- পূর্ব বাটির গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে মো. আশরাফ খন্দকার (৩৫), পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (৪৩), পূর্ব বাটির মকবুল হোসেনের ছেলে মো. শাহ আলম(৪৫) ও চক দাতেয়া গ্রামের মৃত শওকত আলীর ছেলে মো. মোফাজ্জল হোসেন (৫৮)।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দুপুরে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা হয় এবং সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান।
উপজেলার চৌমাথায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন দাঁড়িয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ ১০-১৩ জন ধারালো চাকু নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করে। এ সময় ইউনিয়ন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী এগিয়ে আসলে তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তার ওপর ফেলে গলায় ও শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইফুল্লাহ বারীকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাঘাটা থানার ওসি (তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত চলছে।