

ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। শুক্রবার ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো এই ঘোষণা দেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউএসসিআইএসের পরিচালক বলেন, যতক্ষণ না নিশ্চিত হচ্ছি যে, প্রত্যেক বিদেশিকে সর্বোচ্চ মাত্রায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, ততক্ষণ এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তিনি ‘সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করতে চান।
বিবিসি জানিয়েছে, বুধবারের (২৬ নভেম্বর) গুলিতে একজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হন এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন। কর্মকর্তারা বলছেন, এ ঘটনার জন্য একজন আফগান নাগরিককে দায়ী করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর প্রশাসন প্রথমে আফগান নাগরিকদের ভিসা প্রদান স্থগিত করে, পরে সব ধরনের আফগান অভিবাসন আবেদন পর্যালোচনার জন্য স্থগিত করে। এরপর বৃহস্পতিবার ইউএসসিআইএস জানায়, আফগানিস্তান, ইরান, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলাসহ ১৯টি দেশের নাগরিকদের ইস্যু করা গ্রিন কার্ডগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইউএসসিআইএসকে জানানো হয়েছে যেন তারা কোনো আশ্রয় আবেদন অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা বন্ধ না করে। কর্মকর্তারা শুধু আবেদন খতিয়ে দেখতে পারবেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না। তবে এই নির্দেশনা কতদিন চলবে বা এর পরিধি কী— তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এদিকে জাতিসংঘ যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আশ্রয় চুক্তি মানার আহ্বান জানিয়েছে। অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবী জেরেমি ম্যাককিনি বলেন, ট্রাম্প এই ঘটনাকে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ‘বলির পাঁঠা’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, মানসিক সমস্যা বা উগ্রপন্থা— এসবই জাতীয়তা বা ত্বকের রঙ দেখে হয় না।
মন্তব্য করুন