

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা কাঠামোর অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক চুক্তির আগেই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থায়ন ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।
সূত্রের দাবি, ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে প্রস্তাবিত এই তহবিলের লক্ষ্য হলো ইরানে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া।
তবে এটি কোনো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্গঠন সহায়তা কর্মসূচি নয়। তহবিলটি পুরোপুরি বেসরকারি খাতের অর্থায়নে গঠিত হবে এবং এতে কোনো সরকারি অনুদান বা রাষ্ট্রীয় অর্থ থাকবে না।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদনশিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা।
এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের দাবি, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরান শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে ওয়াশিংটন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এরপরই বিকল্প হিসেবে বিনিয়োগভিত্তিক এই তহবিলের ধারণা সামনে আসে।
ইরানি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক দেশগুলো বিভিন্ন উপায়ে এতে অংশ নিতে পারে। এর মধ্যে ঋণ নিশ্চয়তা, ঋণসুবিধা চালু করা কিংবা যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সরাসরি অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সম্ভাব্য পুনর্গঠন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইস্পাত কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য অবকাঠামো।
সূত্রটি জানিয়েছে, এই তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুক্ত করার আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা আর্থিক প্রক্রিয়া এবং ভিন্ন সময়সূচির আওতায় পরিচালিত হবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার কাঠামো তৈরি করা হবে। এই সময়ের মধ্যে তহবিলের প্রশাসকরা সম্ভাব্য ইরানি পক্ষের সঙ্গে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করবেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির শর্ত পূরণ করলে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে। এর জন্য তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকি ব্যবস্থা মেনে নিতে হবে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, তহবিলের ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ চার দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন থাকা ইরানের জন্য এই তহবিল কার্যকর হলে তা দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স