

ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি (এসএসসি) গঠন, সদস্য নিয়োগ, অপসারণ এবং দায়িত্ব-কর্তব্য নির্ধারণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ নীতিমালার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শরিয়াহসম্মত অনুশীলন আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিমালা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়। শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি সদস্যদের মাসিক সম্মানী ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতি সভায় অংশগ্রহণের জন্য ৮ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
২০০৯ সালে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, তবে তাতে সদস্য সংখ্যা, সম্মানী, মেয়াদ এবং দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। নতুন নীতিমালায় এসব বিষয়ে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ওপর নির্ভর করে ব্যাংকের সব কার্যক্রম শরিয়াহসম্মত রাখা। এজন্য পর্ষদকে ইসলামী আইনশাস্ত্রে অভিজ্ঞ, দক্ষ এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি স্বাধীন শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি গঠন করতে হবে।
শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি সদস্য হতে হলে প্রার্থীদের বেশকিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। তাদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে কামিল, দাওরা-ই-হাদিস, ইসলামী স্টাডিজ, ইসলামী অর্থনীতি, ইসলামী ফাইন্যান্স, ইসলামী ব্যাংকিং অথবা ইসলামী আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। বিশেষ করে ফিকহ-আল-মুয়ামালাত (ইসলামী বাণিজ্যিক আইনশাস্ত্র) বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি বা ইফতা ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষাজীবনে কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে পিএইচডি বা সমমানের উচ্চতর ডিগ্রিও বিবেচিত হবে।
এ ছাড়া প্রার্থীদের অন্তত দুই বছরের শিক্ষকতা, মুফতি হিসেবে কাজ অথবা কোনো ব্যাংকের শরিয়াহ কমিটিতে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ইসলামী ব্যাংকিং বা অর্থনীতি বিষয়ে গবেষণা নিবন্ধ বা বই প্রকাশ থাকাও যোগ্যতার মধ্যে ধরা হবে।
শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি সদস্যদের অবশ্যই লিখিতভাবে ঘোষণা দিতে হবে যে, তারা কখনো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হননি, জালিয়াতি বা আর্থিক অপরাধে জড়িত নন, ঋণখেলাপি নন এবং কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা লাভজনক পদে নেই। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক থাকতে পারবে না।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংকে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটিতে তিন বা পাঁচজন সদস্য থাকবেন। একজন সদস্য সর্বোচ্চ তিনটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য হতে পারবেন। শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি সদস্যদের সাধারণত ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে, তারা সর্বোচ্চ ৬ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এরপর ২ বছর বিরতি নিতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ বিশেষ কারণে সদস্য অপসারণ করতে পারবে, তবে সেই অপসারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন। একইভাবে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি সদস্যরা লিখিত নোটিশ দিয়ে পদত্যাগ করতে পারবেন।
শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে ৩ বছরের জন্য চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে, তবে শরিয়াহ সচিবালয়ের প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, অবশ্য তার ভোটাধিকার থাকবে না।
প্রতিটি ব্যাংকে শরিয়াহ সচিবালয় গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সচিবালয় শরিয়াহ কমিটির সহায়কের ভূমিকা পালন করবে। এতে অভ্যন্তরীণ শরিয়াহ অডিট ও রিভিউ বিভাগ, শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স বিভাগ এবং গবেষণা বিভাগ থাকবে। শরিয়াহ সচিবালয় ব্যাংকের শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটিকে সাহায্য করবে সভার এজেন্ডা প্রস্তুত, সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ এবং শরিয়াহ সংক্রান্ত মতামত প্রদান করতে।