

নেপালের প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা কেপি ওলি শর্মা কয়েক দশক ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি চারবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০২৫ সালে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মুখে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। সে সময় সহিংস বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ নেপালি নিহত হন। এ ঘটনার ছয় মাসের মধ্যেই ৭৩ বছর বয়সী এ নেতা ফের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করছেন।
আগামী ৫ মার্চ নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই নির্বাচনে সংসদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের আশায় মাঠে নেমেছেন ওলি শর্মা। তিনি কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল ইউনিফাইড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্টের (সিপিএন-ইউএমএল) নেতা।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দুর্নীতি, অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও রাজনৈতিক হতাশার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা ওলির বাড়ি, সংসদ ভবন ও সরকারি দপ্তরে হামলা চালায়। ৯ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
ওলি অস্বীকার করেছেন যে, তিনি পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। জানুয়ারিতে তদন্ত কমিশনে দেওয়া বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, সহিংসতার পেছনে ‘অরাজনৈতিক শক্তি’ কাজ করেছে। তবে সমালোচকরা তাকে কর্তৃত্ববাদী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। সাংবাদিকদের মতে, তিনি নিজের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত মনে করতেন এবং সমালোচনা সহজে গ্রহণ করতেন না। তবু ডিসেম্বরে তিনি বিপুল ভোটে ফের সিপিএন-ইউএমএলের প্রধান নির্বাচিত হন।
গত সপ্তাহ ওলি শর্মা নির্বাচনী প্রচার করে পার করেছেন। এবারের নির্বাচনে নিজের আসনেই তিনি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে মেয়র হওয়া বালেন্দ্র শাহ, যিনি তরুণদের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ফলে নির্বাচনটি অভিজ্ঞ পুরোনো নেতৃত্ব বনাম তরুণ প্রজন্মের নতুন রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওলির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন প্রায় ছয় দশকের। ১৯৭৩ সালে রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি ১৪ বছর কারাবরণ করেন। ১৯৮৭ সালে মুক্তির পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন এবং ২০১৫ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। পরবর্তী সময়ে জোট সরকার গঠন করে ফের ক্ষমতায় আসেন। তার সর্বশেষ সরকার গঠিত হয়েছিল নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে। তবে দলটি সম্প্রতি নতুন নেতৃত্বে গেছে।
ভারত ও চীনের মধ্যে অবস্থিত নেপালে ওলি দুই শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছেন, যদিও মাঝে মাঝে ভারতের বিরুদ্ধে জনতাবাদী বক্তব্যও দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো, সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর তিনি ফের জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবেন কি না।