

প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করাই কি কাল হলো মেক্সিকোর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেসের। তিনি ‘এল মেনচো’ নামেই বেশি পরিচিত। গত রোববার তিনি এক নিরাপত্তা অভিযানে নিহত হন। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে খুঁজে পেতে তার এক প্রেমিকার সূত্র ধরেই এগিয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হওয়ায় তার সন্ত্রাসী সংগঠনের কর্মীরা দেশটির অন্তত ছয়টি রাজ্যে ভয়াবহ সহিংসতা চালিয়েছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন।
নেমেসিও ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস ছিলেন শক্তিশালী জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের নেতা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রে মেথামফেটামিন ও ফেন্টানাইল পাচারের অন্যতম প্রধান নেটওয়ার্কে পরিণত হয়।
যেভাবে অভিযান চালানো হয়: মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিকার্দো ত্রেভিয়া ত্রেখোর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তা বাহিনী ওসেগুয়েরার অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পায়। দীর্ঘদিনের নজরদারির একপর্যায়ে তার এক প্রেমিকার বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমে গোপন আস্তানায় প্রবেশের সূত্র মেলে।
পরদিন ওই নারী তাপালপা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি কেবিন কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে গেলেও ওসেগুয়েরা নিজ নিরাপত্তা দল নিয়ে সেখানে অবস্থান করেন। এরপর বিশেষ বাহিনী ও ন্যাশনাল গার্ডের স্পেশাল ইমিডিয়েট রিঅ্যাকশন ইউনিট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান পরিকল্পনা করে।
সন্দেহ এড়াতে সীমিত হেলিকপ্টার সহায়তায় মূলত স্থলবাহিনী দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করলেও মাটিতে কোনো সেনা পাঠায়নি বলে জানিয়েছেন মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম।
বাহিনী কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলে অগ্রসর হলে ওসেগুয়েরার সহযোগীরা গুলি চালায়। বন্দুকযুদ্ধে আট কার্টেল সদস্য নিহত ও দুই সেনা আহত হন। পরে ওসেগুয়েরা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে পাশের বনাঞ্চলে পালিয়ে যান।
বিশেষ বাহিনীর একটি দল ধাওয়া করে জঙ্গলে তাকে খুঁজে বের করে। আরেক দফা গোলাগুলির পর ওসেগুয়েরা ও তার দুই দেহরক্ষীকে গুরুতর আহত অবস্থায় আটক করা হয়। তাদের হেলিকপ্টারে করে গুয়াদালাহারায় নেওয়ার কথা ছিল। তবে পথেই তিনজনের মৃত্যু হলে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় হেলিকপ্টারটি মোরেলিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তাদের মেক্সিকো সিটিতে নেওয়া হয়।
সহিংস প্রতিক্রিয়া: ওসেগুয়েরার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কার্টেল সদস্যরা বিভিন্ন শহরে অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এয়ারলাইন্সগুলো ওই অঞ্চলে ফ্লাইট স্থগিত করে। যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেয়। সহিংসতায় ন্যাশনাল গার্ডের ২৫ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।