

মদ বিক্রির নতুন নীতিমালা তৈরিতে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তার সাবেক ডেপুটি মণীশ সিসোদিয়াকে খালাস দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গতকাল শুক্রবার এ রায় প্রদান করা হয়। রায়ে বিচারক জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘আবগারি নীতিতে কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না।’ তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
২০২১-২২ সালে আম আদমি পার্টির সরকার নতুন মদনীতি চালু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল রাজস্ব বৃদ্ধি এবং মদের কালোবাজারি বন্ধ করা। তবে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় পর তা বাতিল করা হয়। সিবিআই দাবি করেছিল, কেজরিওয়ালই ছিলেন এ দুর্নীতির মূল চক্রান্তকারী। কিন্তু বিচারক সেই ভাষ্য খারিজ করে দিয়ে বলেন, ‘সে রকম তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে না পারলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা টলে যায়।’ এ ছাড়া গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে যে জোরালো প্রমাণের প্রয়োজন, সিবিআই তা দিতে পারেনি। আদালত সিবিআইর তদন্ত প্রক্রিয়ারও কড়া সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে কিছু সন্দেহভাজনকে ক্ষমা করে তাদের রাজসাক্ষী বানানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি মামলার এক নম্বর অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারী কুলদীপ সিংয়ের বিষয়ে সিবিআই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ মামলা কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়াকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে চরম সংকটে ফেলেছিল। সিসোদিয়া ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হয়ে ১৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন, আর কেজরিওয়াল ২০২৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী থাকাবস্থায় গ্রেপ্তার হন।
গতকাল আদালতের রায়ের পর আবেগাপ্লুত কেজরিওয়াল নিজেকে ‘কট্টর ইমানদার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমরা সবসময় বলেছি, সত্যই শেষ বিচারে জিতবে। আমি সবসময় বলেছি, সত্য আমার সঙ্গে আছে। দায়িত্বে থাকা এক মুখ্যমন্ত্রীকে তার বাড়ি থেকে ধরে এনে জেলে ভরা হয়েছিল। আমাদের দিকে কাদা ছোড়া হয়েছিল।’
অন্যদিকে, সিবিআই নিম্ন আদালতের এ রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শিগগির হাইকোর্টে আপিল করার পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের তদন্তের বেশকিছু দিক আদালত বিবেচনা করেননি।