

মিয়ানমারের জান্তা-সমর্থিত সরকার দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ আরও কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় ছুটিকে কেন্দ্র করে ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং আইনি কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এর মাধ্যমে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সু চির সাজা কমানো হলো।
আইনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের এই ক্ষমার আওতায় শান্তিতে নোবেলজয়ী ৮০ বছর বয়সী সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে। যদিও তার সাজার অবশিষ্ট মেয়াদের সুনির্দিষ্ট সময়কাল উল্লেখ করা হয়নি, তবে আগের হ্রাসকৃত সাজা অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে তাকে আরও ১৩ বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকতে হতে পারে। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল এক দফায় সু চির সাজা চার বছরের বেশি কমানো হয়েছিল। মূলত বুদ্ধের জন্ম ও মৃত্যু দিবস হিসেবে পরিচিত ‘কাসোন’ পূর্ণিমা উপলক্ষে ১ হাজার ৫১৯ জন বন্দির পাশাপাশি বাকি সকল দণ্ডিত বন্দির সাজাও এক-ষষ্ঠাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমারের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং গত ১০ এপ্রিল শপথ নেওয়ার পর সামাজিক পুনর্মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেন। সমালোচকদের মতে, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর সু চিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২২ সালের শেষদিকে বিভিন্ন অভিযোগে তাকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা ২০২৩ সালের আগস্টে কমিয়ে ২৭ বছর করা হয়। এরপর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই দফায় তার সাজা আরও কমানো হলো।
অং সান সু চি বর্তমানে রাজধানী নেপিদোর একটি অজ্ঞাত স্থানে কারাভোগ করছেন। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে, তাকে গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তর করা হতে পারে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে এর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।