

সৌদি আরব ‘প্যাকেজ ভিসা’ নামে একটি নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ চালু করেছে, যার মাধ্যমে ট্যুর বুকিংয়ের সঙ্গে একীভূত হলো ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া। বাংলাদেশসহ নির্বাচিত কিছু দেশে অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে বর্তমানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরবর্তী সময় এটি আরও বিস্তৃত পরিসরে চালু করা হবে।
সৌদি ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুবিধাজনক করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পর্যটন ই-ভিসা, ভিসা অন অ্যারাইভাল এবং স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা চালুর পর এবার ‘প্যাকেজ ভিসা’ সংযোজন পর্যটকদের জন্য আরও সহজ ও সমন্বিত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার সৌদি প্রয়াস। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক সৌদি ভ্রমণ করেছেন।
সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল খাতিব বলেন, “সৌদি আরবের পর্যটন খাত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সৌদি সফরকে আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করার অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রতিফলন এই ‘প্যাকেজ ভিসা’। ট্যুর বুকিংয়ের সঙ্গে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকে একীভূত করার ফলে পর্যটকদের পুরো যাত্রা আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি সৌদিকে আরও সহজে ভ্রমণযোগ্য বৈশ্বিক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।”
‘প্যাকেজ ভিসা’র মাধ্যমে ট্যুরিস্টদের জন্য সৌদি সফরের পরিকল্পনা আরও সহজ হবে। আলাদাভাবে ফ্লাইট, একোমডেশন ও ভিসার ব্যবস্থা করার পরিবর্তে, ভ্রমণকারীরা সবকিছু একসঙ্গে বুক করতে পারবেন। নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন অনুষ্ঠান, কার্যক্রম ও ট্যুর অভিজ্ঞতাও যুক্ত করার সুযোগ থাকছে।
এই উদ্যোগ অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজ তৈরির, গ্রাহকসেবা আরও উন্নত করার, ট্যুরিস্টদের দীর্ঘকালীন অবস্থান ও উপভোগ্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
‘প্যাকেজ ভিসা’ শুধু সেসব অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে পাওয়া যাবে, যারা নির্ধারিত সেবার মান পূরণ করে এবং ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা প্রদান করে থাকে।
সৌদি ট্যুরিজম অথরিটি বিশ্বব্যাপী সৌদি আরবকে একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রচার, বিভিন্ন পর্যটন কর্মসূচি, প্যাকেজ ও ব্যবসায়িক সহায়তার মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং সৌদি আরবের অনন্য পর্যটন আকর্ষণগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করে। বর্তমানে সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ১৬টি প্রতিনিধি কার্যালয়ের মাধ্যমে ৩৮টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।