আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর)
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:২১ এএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আড়াই কোটি টাকার কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও

কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা-দূর্বাডাঙ্গা সড়ক
আড়াই কোটি টাকার কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও

যশোরের কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা-দূর্বাডাঙ্গা সড়কের আড়াই কোটি টাকার কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদার উধাও হয়ে গেছেন। ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সড়ক সংস্কার কাজ। সড়কের দুপাশে ঘেরের বেড়িবাঁধের কারণে খুঁড়ে রাখা সড়কে সবসময় হাঁটুপানি জমে থাকছে। এতে দুই উপজেলার শত শত পথচারী ও হাটুরেরা প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে কেশবপুরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে জনগণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা বাজার থেকে বিলের মধ্য দিয়ে দূর্বাডাঙ্গা বাজার পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার একটি ইটের সোলিং সড়ক ছিল। এ সড়ক দিয়ে কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা, মাদারডাঙ্গা, বেলকাটি, বাকাবর্শী, পাঁজিয়া, কেশবপুরসহ আশপাশের ২০ থেকে ২৫ গ্রামের জনগণ চলাচল করে। অন্যদিকে মনিরামপুর উপজেলার বাটবিলা, দূর্বাডাঙ্গা, হরিনা, শ্যামনগর, নেহালপুর, বালিধা, নওয়াপাড়াসহ ১৫ থেকে ২০ গ্রামের জনগণ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। বন্যার হাত থেকে ঘের রক্ষায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগে গড়ভাঙ্গা বিলের ঘের মালিক সেলিমুজ্জামান আসাদ ও কামরুল ইসলাম বিশ্বাস রাস্তার দুপাশে তিন-চার ফুট উঁচু করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেন। এরপর থেকে সড়কটিতে সবসময় হাঁটুপানি জমে থাকত। ফলে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এ সমস্যা নিরসনে গ্রামবাসী স্থানীয় এমপিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন। জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারে ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পান যশোরের বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার আবু সাইদ।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর ঠিকাদার আবু সাইদ সড়কের কাজ শুরু করেন। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল সংস্কার কাজ শেষ করার কথা। ৯ মাস আগে সড়কটির ইটের সোলিং তুলে গর্ত করে খুঁড়ে সড়কের দুপাশে খোয়া ভেঙে রেখে ঠিকাদার উধাও হয়।

গড়ভাঙ্গা গ্রামের জিনায়েত আলী জানান, সড়কটি ঘেরের বেড়িবাঁধের সমান উঁচু করে করার কথা। সড়কের দুই পাশে মাছের ঘের থাকায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে জনগণের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে কেশবপুরে আসতে হয়। রাস্তায় পানি জমে থাকায় বাসিন্দাদের ধান মাড়াই, বাজার সওদা, জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যে কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় পানি, দুপাশে মাছের ঘের থাকায় যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাজের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাজিলের বিদায়ের পর বাংলাদেশি ভক্তদের ধন্যবাদ জানালেন রাষ্ট্রদূত

মিসর ম্যাচের আগে স্বস্তির খবর পেল আর্জেন্টিনা

এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ২

জাবি শিক্ষার্থীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, ৬ বাস আটক

সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ / সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

মিরপুরে ১৪ তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

পাহাড় ধসের শঙ্কা: পাঁচ জোনে বিভক্ত চট্টগ্রাম, ৮ শেল্টার হোম প্রস্তুত

ডিএমপির ৬ ডিসির পদে রদবদল

যুক্তরাজ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি  

সমস্যা থাকবেই, বসে থাকলে চলবে না: প্রধানমন্ত্রী

১০

খাচ্ছেন কম, তবুও বাড়ছে ওজন? জেনে নিন কারণ ও করণীয়

১১

বিরতির অবসান, যে সিনেমা দিয়ে ফিরছেন বুবলী

১২

অন্ধকারে বান্দরবানের ৪ উপজেলা

১৩

পরিবেশ সচিবকে প্রত্যাহার

১৪

ফোনে খুনির কল / ‘তোর বাবাকে মারতে চাইনি, কয়েকটা ছুরিকাঘাত করেছি’ 

১৫

বিশ্বকাপের মাঝেই মেসির বউকে বিশেষ উপহার পাঠালেন রোনালদোর বান্ধবী

১৬

একসঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ছাড়লেন বাবা-ছেলে

১৭

সংগঠিত হোন, লড়াই এখনো বাকি: মাহফুজ আলম

১৮

মঙ্গলবার ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

১৯

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হলেন আনিছুর রহমান

২০
X