

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে তৎকালীন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আইবি) সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্যের গোপন নথিপত্রের সংকলন ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারীর নেতৃত্বে প্রকাশিত আলোচিত এ গ্রন্থটি সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ২২ জন কর্মকর্তা। এজন্য তারা পুরস্কারস্বরূপ পেয়েছিলেন একটি করে ফ্ল্যাট।
প্রতিটি ১৫০০ বর্গফুট আয়তনের এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয় রাজধানীর মিরপুরের ১৫ নম্বর সেকশনে গৃহায়নের একটি প্রকল্পে। অন্যদিকে, কক্সবাজারে ফ্ল্যাটের পাশাপাশি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে সাড়ে সাত কাঠার প্লটও পান জাবেদ পাটোয়ারী। পুলিশের বিশেষ শাখা বা স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি দপ্তর থেকে পাওয়া নথি বিশ্লেষণ ও কালবেলার অনুসন্ধানে মিলেছে এমন চমকপ্রদ সব তথ্য।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চে একটি ফাইল খোলা হয়। ওই ফাইলে থাকা গোপন নথিগুলো বই আকারে প্রকাশের জন্য ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর এসবিকে দায়িত্ব দেন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার ধারাবাহিকতায় গোপন সেসব নথি কম্পিউটারে টাইপ করে মুদ্রিত আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা এবং মূল নথিপত্র স্ক্যানারে স্ক্যান করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহের জন্য একটি টিম গঠন করা হয়, যে টিমের নেতৃত্বে ছিলেন পুলিশের সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী। তার নেতৃত্বে এসবিতে থাকা গোপন নথি সংগ্রহ করে মোট ২২ জন কর্মকর্তা সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংকলনটি সম্পাদনা করেন।
প্রায় ৪০ হাজার পৃষ্ঠার ১৪ খণ্ডের এ সংকলনটি বই আকারে ২০১৮ সালে হাক্কানী পাবলিশার্স থেকে প্রকাশ হয়। প্রথম খণ্ডে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের রিপোর্ট রয়েছে। এরপর আরও ১৩ খণ্ডে রয়েছে ১৯৫১ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সময়ে আইবির প্রতিবেদন। ‘অত্যন্ত দক্ষতা’র সঙ্গে সম্পাদনা করায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংকলনের মুখবন্ধে শেখ হাসিনা লেখেন, ‘অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এ কাজটা তারা সম্পন্ন করেছেন। একটা টিম দিনরাত পরিশ্রম করেছে। এই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। দীর্ঘদিন এই একই পদে আমি তাকে রেখেছিলাম শুধু এই কাজটা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য। আমি তাকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তার সঙ্গে যারা কাজ করেছেন তাদেরও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে ১৯৬০ সালে যে খাতাটা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, সেই খাতাটা খুঁজে বের করার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদেরও আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।’
শেখ হাসিনা আরও লেখেন, ‘যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের নামের তালিকা ধন্যবাদ জ্ঞাপন শিরোনামে দিয়ে দিলাম। যখন প্রথম সব ফাইল সংগ্রহ করি, তখন এসবির ডিআইজি ছিলেন সামসুদ্দিন সাহেব, তাকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। কারণ, এই অমূল্য রত্নভান্ডারের খোঁজ তিনিই আমাকে দিয়েছিলেন।’
কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বইটির ধন্যবাদ জ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের নামের তালিকা যুক্ত করে শেখ হাসিনা লেখেন, ‘স্পেশাল ব্রাঞ্চে সংরক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত ফাইল (পিএফ) বাছাইকরণ, সুবিন্যস্তকরণ, স্ক্যানিং, টাইপিং, কারেকশন, বই প্রণয়ন ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
কালবেলার অনুসন্ধান বলছে, শুধু ধন্যবাদ জ্ঞাপন নয়, সিক্রেট ডকুমেন্টস বইটি সম্পাদনার জন্য জাবেদ পাটোয়ারীসহ ২২ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃতও করা হয়। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে উপহার দেওয়া হয় একটি করে ফ্ল্যাট। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর ১৫ নম্বর সেকশনের একটি আবাসিক প্রকল্পে ফ্ল্যাটগুলো দেওয়া হয়। আর নেতৃত্বে থাকা জাবেদ পাটোয়ারী পান প্লট ও ফ্ল্যাট।
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি তার লেখা নয়, এটি পুলিশের সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর ‘লেখা’ উল্লেখ করে বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। পুলিশের একটি বিশেষ শাখা থেকে ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ পাওয়ার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রচার করে টেলিভিশন চ্যানেলটি। আর এর পরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বইটি রচনা করে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে জাবেদ পাটোয়ারীসহ মোট ১২৩ জনের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি অনুসন্ধান করে ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক সংকলন সম্পাদনায় জাবেদ পাটোয়ারীর সম্পৃক্ততার তথ্য পায় দৈনিক কালবেলা।
জানতে চাইলে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিয়ে কিছু পত্রিকার প্রতিবেদন আমাদের নজরে এসেছে। সম্ভবত অভিযোগকারীরা একটি প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত অন্য একটি গ্রন্থের সঙ্গে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’কে গুলিয়ে ফেলেছেন। ইউপিএল প্রকাশনার মানদণ্ড কঠোরভাবে বজায় রাখে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ আমরা পাইনি, যার ভিত্তিতে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীর’ রচনাকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’
একই ধরনের তথ্য মিলেছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান ও এসবির তথ্যে। গুরুতর এ অভিযোগ ওঠার পরই মাঠে নামে দুদক। এনফোর্সমেন্ট দল থেকে চালানো হয় অভিযান, সংগ্রহ করা হয় এ সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) ও সংস্থাটির মুখপাত্র মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল থেকে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানে সিক্রেট ডকুমেন্টস বই সম্পাদনা সংক্রান্ত কিছু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, যা এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি এখন কমিশনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে দুদকের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘দুদকের অভিযানে সিক্রেট ডকুমেন্টস বই সম্পাদনের সঙ্গে পুলিশের সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব কর্মকর্তা এ বই লিখে সরকার থেকে বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্লেষণ ও কালবেলার অনুসন্ধান বলছে, মূলত সিক্রেট ডকুমেন্টস বইয়ের তথ্য সংগ্রহ এবং সম্পাদনায় ভূমিকা রেখে জাবেদ পাটোয়ারী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে এ সংকলনটি সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা জাবেদ পাটোয়ারীসহ অন্য কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য ও নথি ঘেঁটে জানা গেছে, পুরস্কারস্বরূপ রাজধানীর পূর্বাচলে ১ নম্বর সেক্টরে দুই দফায় সাড়ে ৭ কাঠার প্লট এবং কক্সবাজারের কলাতলীতে সরকারি জমিতে ৪৬৯টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছিলেন জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি সরকারি কর্মচারী কোটায় লটারির মাধ্যমে ৪৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ৯২০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটি পান বলে উল্লেখ রয়েছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে।
অন্যরা রাজধানীর মিরপুরের ১৫ নম্বর সেকশনের ‘১০০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ সদস্য কোটায় একটি করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পান। এসব ফ্ল্যাটের আকার ১ হাজার ৫০০ বর্গফুট এবং প্রতিটি ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রিসহ মূল্য ছিল ৬০ লাখ টাকা। তথ্য বলছে, এসব ফ্ল্যাটের মূল্য বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরিশোধ করেছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের এই ২২ কর্মকর্তার মধ্যে এরই মধ্যে ছয়জন অবসরে এবং একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে আলোচিত এ সংকলন সম্পাদনে যেসব কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুব হোসেন, প্রয়াত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুয়েল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ শফিকুল ইসলাম ও মো. মশিউর রহমান এবং অবসরপ্রাপ্ত এসআই জসিম উদ্দিন। অন্যরা এসবিসহ পুলিশের বিভিন্ন শাখায় বর্তমানে কর্মরত।
বর্তমানে কর্মরতদের মধ্যে রয়েছেন খাগড়াছড়ির পরিদর্শক জুবায়ের আহমেদ, এপিবিএনের এসআই ইদ্রিস মাহমুদ, ঠাকুরগাঁওয়ের এসআই আবুল কালাম আজাদ, জামালপুরের এসআই মো. শামিম আহমেদ, বরিশালের এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, পিরোজপুরের এসআই বুলবুল আহমেদ, র্যাবে প্রেষণে থাকা এসবির এসআই মো. শাহ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটনে কর্মরত এসআই নুরুল আমিন, ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই তরিকুল সালাম, এসবির এএসআই মাসুম তালুকদার, রেলওয়ের এসআই নূর আলম হোসেন, এসবিতে কর্মরত এসআই মো. জফির উদ্দিন ও আব্দুস সালাম এবং এসবি প্রধান সহকারী সেলিনা আফরোজ ও উচ্চমান সহকারী সফিকুল ইসলাম।
কালবেলার হাতে আসা নথিতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্য কোটায় ফ্ল্যাট পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রয়াত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুর রহমানের ফ্ল্যাট নম্বর ১০/ই, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুয়েল আমিনের ফ্ল্যাট নম্বর ১০/এফ, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ শফিকুল ইসলামের ফ্ল্যাট নম্বর ১০/জি ও মো. মশিউর রহমানের ফ্ল্যাট নম্বর ১০/এইচ এবং অবসরপ্রাপ্ত এসআই জসিম উদ্দিনের ফ্ল্যাট নম্বর ১১/বি। তবে, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুব হোসেনের ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, পরিদর্শক জুবায়ের আহমেদের ফ্ল্যাট নম্বর ১১/এ, এসআই ইদ্রিস মাহমুদের ফ্ল্যাট নম্বর ১১/জি, এসআই আবুল কালাম আজাদের ফ্ল্যাট নম্বর ১১/ই, এসআই মো. শামিম আহমেদের ফ্ল্যাট নম্বর ১১/ডি, এসআই মো. সাইফুল ইসলামের ফ্ল্যাট নম্বর ১১/সি, এসআই বুলবুল আহমেদের ফ্ল্যাট নম্বর ১১/এফ, এসআই মো. শাহ আলমের ফ্ল্যাট নম্বর ১১/এইচ, এসআই নুরুল আমিনের ফ্ল্যাট নম্বর ১২/এ, এসআই তরিকুল সালামের ফ্ল্যাট নম্বর ১২/বি, এএসআই মাসুম তালুকদারের ফ্ল্যাট নম্বর ১২/সি, নুর আলম হোসেনের ফ্ল্যাট নম্বর ১২/ডি, মো. জফির উদ্দিনের ফ্ল্যাট নম্বর ১২/ই ও আব্দুস সালামের ফ্ল্যাট নম্বর ১২/এফ এবং এসবির প্রধান সহকারী সেলিনা আফরোজের ফ্ল্যাট নম্বর ১২/জি ও উচ্চমান সহকারী সফিকুল ইসলামের ফ্ল্যাট নম্বর ১২/এইচ।