

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কমানোর সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। পাশাপাশি এআইটি ফেরত দেওয়ার ঘোষণাও ইতিবাচক উদ্যোগ। এর ফলে ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণের (ডিরেগুলেশন) মাধ্যমে সরকারি কাজে বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমিয়ে সহজ ও স্বচ্ছ ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ সময়োপযোগী। এছাড়া বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামালে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত শিল্পখাতকে সহায়তা করবে।’
তবে আরও কিছু কাঁচামালের শুল্ক হ্রাস করা হলে দেশে মূল্য সংযোজন (ভ্যালু অ্যাডিশন) বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে নতুন পণ্যের জন্য বন্ড লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণাকে তিনি স্বাগত জানান। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন পণ্য রপ্তানিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চেম্বার সভাপতি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠনের উদ্যোগ আগামী দুই থেকে তিন বছরে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বৃহৎ শিল্প, সিএমএসএমই, কৃষি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে বরাদ্দ এবং ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ঘোষণাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ডলাইন স্থাপনের প্রস্তাব চট্টগ্রামবাসীর জন্য সুখবর।
তিনি আরও বলেন, পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন ইপিজেড স্থাপন এবং কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করবে এবং দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
রপ্তানি শিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে উল্লেখ করে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ, এসআইসিআইপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং শ্রমিক কল্যাণ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে রেমিট্যান্স প্রণোদনা ও শ্রমবাজার সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
বাজেটে বৈদ্যুতিক (ইভি) গাড়ির ওপর শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি সোলার বিদ্যুতের ব্যয়ও হ্রাস পাবে।
শিক্ষাখাতে বড় বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এ বরাদ্দের বড় অংশ কারিগরি শিক্ষায় ব্যয় করা প্রয়োজন বলে মত দেন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি।