

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচটি সাংগঠনিক বিভাগের সাড়ে তিন শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে এ বৈঠক হয়।
এ সময় তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করতে হবে। যারা আসল বিএনপিকর্মী, তারা কখনো বিএনপিকে ভাঙবেন না। এ সময় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নীরবে থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বক্তব্য শোনেন। তবে তাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ছিল না বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বসেন তিনি। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আজ সোমবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
বৈঠক সূত্র জানায়, শুরুতেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় তারা কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এটি দলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। তবে আপনারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন।
বৈঠকে উপস্থিত চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী কালবেলাকে জানান, সবার শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের উদ্দেশে বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী বাছাই করতে হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। তা না হলে দেশ ও জাতির ক্ষতি হবে। যারা সত্যিকার অর্থে বিএনপি করেন ও ভালোবাসেন তারা দয়া করে বিএনপিকে ভাঙবেন না।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আরও জানান, তারেক রহমান আরও বলেছেন, যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার প্রথম কাজ হবে নিজের আসনে গিয়ে সহকর্মীদের ডেকে নিয়ে পরামর্শ করে কাজ করা। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে স্থানীয় সহকর্মীদের সাহায্য ছাড়া নির্বাচন করা কঠিন হয়ে যাবে। সেজন্য সবাইকে ডেকে নিয়ে সবার সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন। তিনি কালবেলাকে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন নির্বাচনে তিনি যাকেই মনোনয়ন দেবেন, তার পক্ষে কাজ করার কথা বলেছেন। আমি মনে করি, তার দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য মানা অত্যাবশ্যকীয়। আগামী নির্বাচনে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং সবাই তা মেনে চলবে।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক বলেন, তারেক রহমান যেহেতু দলের প্রধান, তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তার সিদ্ধান্ত আমরা মেনে চলব। তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং সুবিধাভোগী ও পরিবারতন্ত্র থেকে দল যদি কাউকে মনোনয়ন দেয়, সেটি হবে খুবই খারাপ বিষয়। নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা খুবই কষ্ট পাবেন।
রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও-৩ (রানীশংকৈল-পীরগঞ্জ) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জিয়াউল ইসলাম জিয়া ও কামাল আনোয়ার আহাম্মেদ কালবেলাকে জানান, এই বৈঠক খুবই প্রয়োজন ছিল। তবে তারেক রহমান সবার কথা শুনলে বিষয়টি আরও ভালো হতো। তারপরও দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তারেক রহমান যাকেই মনোনয়ন দেবেন, আমরা তার নির্দেশমতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।
ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. প্রকৌশলী মোস্তাফা-ই জামান সেলিম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা তা মেনে চলব। তবে দল অবশ্যই যোগ্য লোককে মনোনয়ন দেবে, এটি আমার বিশ্বাস।