

রানা প্লাজা ধসের পর বদলে গেছে নির্মাণ ভাবনা, বেড়েছে পুরোনো ভবনের স্থায়িত্ব রক্ষায় সচেতনতা। পুরোনো, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে না ফেলে কাঠামো শক্তিশালী করে তাতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারের প্রক্রিয়াই হলো রেট্রোফিটিং। দেশে গত এক দশকে সরকারি-বেসরকারি শতাধিক ভবনে প্রয়োগ হয়েছে এই প্রযুক্তি। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় তৈরি হচ্ছে নতুন নকশা, গাইডলাইন ও প্রশিক্ষণ মডেল। বিশেষ করে সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও গার্মেন্টস ভবনে ভূমিকম্প সহনশীলতা বাড়াতে বাড়ছে এর ব্যবহার। প্রকৌশলীরা বলছেন, রেট্রোফিটিং শুধু সংস্কার নয়, এটি ভবনের নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও ঐতিহ্য রক্ষার এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তি। আগামী দুই-তিন দশকে এই পদ্ধতিই হয়ে উঠবে নির্মাণ খাতের আস্থার প্রতীক।
সাধারণত দুই ধরনের ভবনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় আরসিসি (RCC) বিল্ডিং ও স্টিল স্ট্রাকচারে। এ কাজের জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। জাইকার সহায়তায় এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য গেজেটেড ও নন-গেজেটেড উভয় পর্যায়ে গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে দেশে এখনো কোনো স্থায়ী প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই। সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায়ও রেট্রোফিটিংয়ের কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এ প্রযুক্তি বাস্তবায়নে যেসব উপকরণ প্রয়োজন হয়, সেগুলো দেশে সহজলভ্য নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, ফলে বেড়ে যায় ব্যয়। একই সঙ্গে দক্ষ জনবলের ঘাটতিও বড় বাধা হয়ে আছে।
প্রকৌশলীরা জানান, বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে নির্মিত বা ভূমিকম্প সহনশীল নয়—এমন ভবন এবং নকশাগত ত্রুটি থাকা পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে রেট্রোফিটিং করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্বল হয়ে পড়া কাঠামোর শক্তি বাড়াতে প্রয়োগ করা হয় এ প্রযুক্তির। ভবনের মূল নকশার বাইরে গিয়ে আনা হয় কাঠামোগত পরিবর্তন। যদিও এটি সাধারণ নির্মাণ প্রযুক্তির তুলনায় সহজলভ্য নয়, তবে সময় ও স্থায়িত্বের দিক থেকে অধিক কার্যকর। এই সুবিধার কারণে রেট্রোফিটিংয়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে সব পুরোনো ভবনের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগযোগ্য নয়।
প্রকৌশলীরা আরও জানান, সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে রেট্রোফিটিং করা ভবনের আয়ুষ্কাল ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। নকশাগত দুর্বলতা বা নির্মাণ ত্রুটি থাকলে ভবনের ব্যবহার পরিবর্তনেও এ প্রযুক্তি সহায়ক। মেয়াদোত্তীর্ণ বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে রেট্রোফিটিং করে ফের ব্যবহারযোগ্য করা যায়। তবে অত্যধিক পুরোনো ভবনের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা সীমিত। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণেও ব্যবহৃত হচ্ছে এ প্রযুক্তি। সংস্কার করা ভবন যেন সর্বোচ্চ শক্তিমাত্রা অর্জন করে নিজস্ব ভর, বায়ুচাপ, ভূমিকম্প, তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সহনশীলতা বজায় রাখে, সে দিকটিও গুরুত্ব পায় রেট্রোফিটিং প্রক্রিয়ায়।
রেট্রোফিটিং সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের নির্মাণ বাজারে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে। বর্তমানে জেসিএস কনস্ট্রাকশন, প্রিভিল্যান্ড গ্রুপ, এসএ নির্মাণ প্রযুক্তিসহ অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান এই খাতে কাজ করছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় রাজউক এনেক্স ভবন, তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন, বাংলাদেশ বেতার ভবন, আগারগাঁওয়ে আবহাওয়া ভবন, টাঙ্গাইলে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালত ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজসহ দেশের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ভবনে রেট্রোফিটিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া সাভারের একটি গার্মেন্টস, মুগদা এলাকার একটি ভবন এবং উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একটি আটতলা ভবনের সম্পূর্ণ কাঠামোতেই রেট্রোফিটিংয়ের কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভবন রেট্রোফিটিংয়ের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর নতুন প্রস্তাবনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী কালবেলাকে বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে রেট্রোফিটিং একটি প্রচলিত ও জনপ্রিয় ভবন সংস্কার পদ্ধতি। বাংলাদেশেও এখন এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন ডেভেলপার ও বিল্ডিং সার্ভিস কোম্পানি ভবনের কাঠামো নকশা থেকে শুরু করে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাজ পরিচালনা করছে। এসব কাজের মধ্যে বহুতল শপিংমল, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও পারিবারিক পুরোনো ভবন বেশি রয়েছে। ফলে যেমন রক্ষা পাচ্ছে স্থাপত্য ঐতিহ্য, তেমনি অক্ষুণ্ন থাকছে প্রজন্মের স্মৃতি। বাংলাদেশে রেট্রোফিটিং ধারণা একেবারে নতুন নয়; বহু বছর ধরেই কিছু প্রতিষ্ঠান, স্থপতি ও প্রকৌশলী ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই কাজ করে আসছেন।’
রেট্রোফিটিং প্রযুক্তির সুবিধা তুলে ধরে গণপূর্তের এই প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘ভবনের ব্যবহারধারা পরিবর্তন করতেও এ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়। যেমন—কোনো আবাসিক ভবনকে শিল্প বা বাণিজ্যিক ব্যবহারে রূপান্তর করতে চাইলে কাঠামোকে ফের শক্তিশালী করা হয় রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে। ভবনের ফাউন্ডেশন যদি দুই বা তিন তলার উপযোগী হয়, তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতিরিক্ত কয়েকটি ফ্লোর (তলা) বাড়ানো সম্ভব। তবে ভবনটি যদি অত্যন্ত পুরোনো হয়, তাহলে এ পদ্ধতি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং কাঠামোর ভূমিকম্প সহনশীলতা নিশ্চিত করা না-ও যেতে পারে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীলতা নিশ্চিত করতে অবশ্যই বিল্ডিং কোড মেনে চলতে হবে। আর পুরোনো ভবনের ক্ষেত্রে যেগুলো নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়নি, সেগুলো রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করা উচিত।’
এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে পুরোনো ভবনগুলোর জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। রেট্রোফিটিং তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য, তবে সবক্ষেত্রে খরচ একই হয় না। ভবনের নকশা, আয়ুষ্কাল ও কাঠামোগত জটিলতার ওপর ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করে।’
ড. রাকিব আহসান জানান, দেশে রেট্রোফিটিং প্রযুক্তি নিয়ে বর্তমানে বেশকিছু কোম্পানি কাজ করছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উদ্যোগে এ-সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তার মতে, ড্যাম পাওয়ার বা বেস আইসোলেশন পদ্ধতির তুলনায় রেট্রোফিটিং অনেক সাশ্রয়ী। তবে বড় সরকারি ভবনের ক্ষেত্রে ড্যাম পাওয়ার বা বেস আইসোলেশন প্রযুক্তি বেশি কার্যকর, কারণ রেট্রোফিটিং করলে সেখানে ব্যয় অনেক বেড়ে যায়।
পুরোনোর পাশাপাশি বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে গড়া নতুন ভবনকেও রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে ভূমিকম্প সহনশীল করে তোলা সম্ভব বলে জানান গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিজাইন সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘রেট্রোফিটিং করার আগে দেখতে হবে ভবনটি বিল্ডিং কোড মেনে নির্মিত হয়েছে কি না। যদি না হয়, তাহলে রেট্রোফিটিং করতে হয়। তবে ব্যয় যদি বেশি হয়, সেক্ষেত্রে নতুন করে ভবন নির্মাণ করাই ভালো। মূলত পুরোনো বা কোডবহির্ভূত নতুন ভবনকেও রেট্রোফিটিং করে ভূমিকম্প সহনশীল করা সম্ভব।’
বেশকিছু সরকারি পুরোনো ভবনে রেট্রোফিটিংয়ের কাজ সম্পন্নের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পুরোনো সরকারি ভবনগুলোর মধ্যে অনেকগুলোতেই রেট্রোফিটিং সম্পন্ন হয়েছে, বিশেষ করে আশির দশকে নির্মিত যেসব ভবন তখন ভূমিকম্প সহনশীল ছিল না। আগারগাঁও আবহাওয়া অফিস, বাংলাদেশ বেতার ভবন, রাজউক এনেক্স ভবন এবং মিরপুর ও সাভারের অসংখ্য গার্মেন্টস, আবাসিক ভবনে রেট্রোফিটিং করা হয়েছে। এ ছাড়া পুনর্গঠন বা রি-স্ট্যান্ডার্ডিং কাজও চলছে ব্যাপকভাবে।’
প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের মতে, রেট্রোফিটিং প্রযুক্তিতে কাজের স্থায়িত্ব ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত থাকে। দুর্বল অবকাঠামো বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে ভূমিকম্প সহনশীল করে তোলা সম্ভব। আগের তুলনায় বর্তমানে দেশে এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও চাহিদা দুটোই দ্রুত বাড়ছে।
জেসিএস কনস্ট্রাকশনের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মো. জাহিদ কালবেলাকে বলেন, ‘দিন দিন দেশে রেট্রোফিটিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এখন অনেক কোম্পানি এ কাজ করছে। যেসব ভবন নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়নি বা দুর্বল কাঠামোর, সেসব ক্ষেত্রে রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে কাজ করা হয়। পুরোনো ভবনের ক্ষেত্রেও এ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়—তবে তা নির্ভর করে ভবনের আয়ুষ্কাল ও বর্তমান অবস্থা কতটা উপযোগী, তার ওপর। কোনো ভবন যদি একেবারে মেয়াদোত্তীর্ণ বা অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেখানে রেট্রোফিটিং কার্যকর না-ও হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ প্রযুক্তির অন্যতম উপাদান হলো কেমিক্যাল। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানি এ কাজের জন্য নানা দামের কেমিক্যাল সরবরাহ করে। অনেক কেমিক্যাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, তবে এর আড়ালে নকল ও নিম্নমানের কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এটি ভবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে ভবনের স্থায়িত্ব নষ্ট হয় এবং টেকসই থাকে না।’
মো. জাহিদ বলেন, ‘বহু পুরোনো বিল্ডিং বা স্ট্রাকচার (স্থাপনা) লোড নিতে পারে না এবং ভূমিকম্প সহনশীলও নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান এমন ভবনের কিছু অংশ নতুন করে সংযোজন করে ভবনকে শক্তিশালী করার দাবি তোলে। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় সেই কাজ কার্যকর হয় না। পুরোনো ভবনকে শুধু ইচ্ছামতো বড় করা বা ভূমিকম্প সহনশীল করা সম্ভব নয়; ভবনের বয়স ও অবস্থা বিবেচনা করেই কাজ করতে হয়।’
বিশ্বের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা টিকিয়ে রাখতে রেট্রোফিটিং প্রযুক্তি বহুল ব্যবহৃত উল্লেখ করে প্রিভিল্যান্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুরোনো স্থাপনার কাঠামো ও স্থায়িত্ব রক্ষায় এ প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। সাধারণত দুই ধরনের ভবনে আরসিসি বিল্ডিং ও স্টিল স্ট্রাকচারে, এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।’
তিনি জানান, বাংলাদেশে ২০১৪ সালের পর থেকে রেট্রোফিটিং কাজ গুরুত্বসহকারে শুরু হয়। তবে এ প্রযুক্তির প্রয়োগে যেসব উপকরণ ও সামগ্রী প্রয়োজন, তা দেশে সহজলভ্য নয়। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল। বর্তমানে বার্জার ও সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি সিকাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশে রেট্রোফিটিং উপকরণ উৎপাদন শুরু করেছে। বিদেশ থেকে আনা কাঁচামালের প্রক্রিয়াজাতকরণও এসব কোম্পানির মাধ্যমে করা হচ্ছে। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় রেট্রোফিটিং উপকরণের দাম প্রায় চারগুণ বেশি। সিমেন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। প্রিভিল্যান্ড গ্রুপ আট বছর ধরে ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশন উভয় ক্ষেত্রেই রেট্রোফিটিং প্রকল্পে কাজ করছে।’
দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সময়ের দাবি: রেট্রোফিটিং কাজে দক্ষ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে গণপূর্ত অধিদপ্তর, যা এরই মধ্যে জাইকার সহযোগিতায় বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
২০১৪ সালের পর, বিশেষ করে সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর, রেট্রোফিটিং নিয়ে জাইকা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করে। জাইকার অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় এখন এ খাতে গাইডলাইন, রেট শিডিউল ও বিল্ডিং কোডের মতো নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। আগে যেখানে কোনো নির্দেশনা ছিল না, এখন সেখানে গেজেট ও নন-গেজেটেড উভয় ধরনের গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কোন উপকরণ ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে নকশা তৈরি করতে হবে, এসব বিষয়ও এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেট্রোফিটিং একটি ব্যয়বহুল পদ্ধতি, যা সব ভবনের জন্য উপযোগী নয়। ভবনের কাঠামো, নকশা ও বয়স অনুযায়ী এটি প্রয়োগযোগ্য কি না, তা নির্ধারণ করতে হয় সতর্ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে।
এসএ নির্মাণ প্রযুক্তি কোম্পানির প্রকৌশলী মো. লিটন হোসেন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান ১৯৯৯ সাল থেকে কাজ করছে, তবে ২০১৪ সালের পর থেকে রেট্রোফিটিং প্রকল্পে পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু হয়। বিশেষ করে রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই কোড অনুযায়ী ডিজাইন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ভবনকে ভূমিকম্প সহনশীল করতে এ কোড অনুযায়ী কাজ করতে হয়।
এই প্রকৌশলী কালবেলাকে বলেন, ‘রেট্রোফিটিংয়ের কাজ এত সহজ নয়। সাধারণ নির্মাণকাজের তুলনায় ব্যয় কয়েকগুণ বেশি হয়। জাইকা নির্ধারিত কোড ও নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়, যা শুধু প্রশিক্ষিত ও দক্ষ প্রকৌশলীরাই করতে সক্ষম। এরই মধ্যে মিরপুর, সাভার ও ইপিজেড এলাকাসহ বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় রেট্রোফিটিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের প্রকল্পে মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখলে ভবনের আয়ুষ্কাল ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।’