সেলিম আহমেদ
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ক্লাসের বাইরে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষক

ক্লাসের বাইরে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষক

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুয়াপুর নান্নার উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৯ সালে। ২০২১ সালের আগস্টে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি হারানো গৌরব ফিরে পেতে শুরু করে। পাবলিক পরীক্ষার ফলে বিদ্যালয়টি উপজেলায় শীর্ষ অবস্থান অর্জন করে। খেলাধুলা, স্কাউট, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ সাফল্য দেখায়। ব্যক্তিগতভাবে আনোয়ারুল ইসলামও দুইবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। তার সময়েই বিদ্যালয়ে কলেজ শাখা চালু হয়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েকদিন পর বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। একপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান সেলিম রাজধানীর মিরপুরে নিজের বাসায় ডেকে তাকে চাপ দিয়ে পদত্যাগের জন্য বাধ্য করেন বলে অভিযোগ আনোয়ারুল ইসলামের।

কালবেলাকে এই শিক্ষক বলেন, ‘আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। বিদ্যালয়ে যোগদানের পর আর্থিকসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলাম। এতে কয়েকজন শিক্ষক অসন্তুষ্ট ছিলেন। কলেজ শাখা চালুর বিষয়েও তাদের আপত্তি ছিল। পরে সুযোগ বুঝে তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পদত্যাগের পরিবেশ তৈরি করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার বেতন বন্ধ রয়েছে। সংসার চালাতে জমি বিক্রি করতে হয়েছে, ঋণ করতে হয়েছে। বয়স ৫০ বছরের বেশি হওয়ায় নতুন করে চাকরিও পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে। কী কষ্টে আছি তার সীমা-পরিসীমা বলে বোঝানোর মতো নয়। বলতে গেলে অঝোর ধারায় চোখের জল ঝরবে, কিন্তু বলা হবে না।’

একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদির। শিক্ষক ও স্থানীয় রাজনীতির বলি হয়েছেন তিনিও। বরখাস্ত করা হয়েছে জোরপূর্বক। আব্দুল কাদির বলেন, ‘খাদের কিনারে পড়া স্কুলকে আমি তুলে এনেছি। পুরো জেলার মধ্যে এখন মডেল ধরা হয় বিদ্যালয়টিকে। আওয়ামী লীগের আমলেও বিদ্যালয়টির একাধিকবার সভাপতি ছিলেন বিএনপির লোকজন। অথচ আমাকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এসব জোরপূর্বক বরখাস্তের বিষয়টি সুরাহা করার জন্য কয়েকবার চিঠি দিলেও তার কোনো সমাধান হয়নি। শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত আমাকে পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন। দেখি এখন কী হয়।’

শুধু স্কুল কিংবা কলেজ নয়, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা প্রশাসনের অনেক শিক্ষকই ৫ আগস্টের পর এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহযোগী অধ্যাপক বলেন, ‘আমাকে কেন পাঠদান থেকে এতদিন বিরত রাখা হয়েছে, তা নিজেও জানি না। আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় অসুস্থ ছিলাম। তবে শুনেছি আমার বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট একটু নমনীয় হয়েছে, তারা ক্লাসে ফেরানোর চিন্তা করছে। তাই এ বিষয়ে বেশি কথা বলতে চাচ্ছি না।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একদল শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ‘মব’ বা আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের পদধারী কিংবা সমর্থক শিক্ষকদের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। কোনো কোনো শিক্ষককে আবার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষই সাময়িক ও স্থায়ী অব্যাহতি দেয়। দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে—এমন কিছু শিক্ষককেও পদত্যাগ করানো হয়। অনেক জায়গায় হেনস্তার মুখোমুখি হন শিক্ষকরা। কোথাও কোথাও শিক্ষকদের মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জন শিক্ষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও চার শতাধিক শিক্ষক বিষয়টি মানসিকভাবে মেনে নিতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক শিক্ষক আছেন যারা পদত্যাগ না করলেও আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়ার আশঙ্কায় এখন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারেননি সাড়ে ৩ সহস্রাধিক শিক্ষক: আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কয়েক মাসে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ঠিক কতজন শিক্ষককে মবের শিকার হয়ে পদত্যাগ, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই শিক্ষা প্রশাসনের কাছে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, প্রায় ছয় হাজার শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগ ও বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষক আদালতের রায়, স্থানীয় সমঝোতা কিংবা প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে কাজে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এখনো সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের বাইরে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা। সরকারি শিক্ষকদের অনেককে বদলির মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষক চাকরি ও বেতন—দুটি থেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্কুল-কলেজের কতজন পদত্যাগ করেছেন তার হিসাব মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বা জেলা শিক্ষা অফিসের কাছে পাওয়া না গেলেও রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের পর পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক জোট বলছে, ওই সময়ে প্রায় চার হাজার শিক্ষককে জোরপূর্বক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে দেড় হাজারের মতো শিক্ষক আদালতের রায় কিংবা স্থানীয়ভাবে আপস করে ক্লাসে ফিরেছেন। বাকি আড়াই হাজার শিক্ষক এখনো ক্লাসের বাইরে। এর মধ্যে ৯৪০ জন শিক্ষকের বেতন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই চিত্র দেখা যায়। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তিদের পদত্যাগের পাশাপাশি সহস্রাধিক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনো ছয় শতাধিক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের বাইরে রয়েছেন। এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে আরও পাঁচ শতাধিক শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারেননি।

শিক্ষকদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে উদাসীনতা: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে যারা জোরপূর্বক পদত্যাগ কিংবা বরখাস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধানের জন্য বারবার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি সমাধান করতে চরম উদাসীন। বিশেষ প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও দায়িত্বশীল ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানরাও পদত্যাগ করা শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরুক, তা কোনোভাবেই চাচ্ছেন না।

সূত্রমতে, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম বরখাস্তের দিন থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যথায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীয় পদে পুনর্বহাল হবেন বলেও জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়। এরপর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি আরেক প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কলেজ) অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকসহ যাদের বিরুদ্ধে যৌক্তিক অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর মন্ত্রণালয় যথাযথ নির্দেশনা জারি করবে। তদন্ত প্রতিবেদন আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বেতন-ভাতা চালু থাকবে।

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের দুই চিঠির পরও বিষয়টি সমাধান হয়নি। তারা আদৌ স্বীয় পদে বহাল, না বরখাস্ত অবস্থা আছেন—তা বুঝতে পারছেন না। এ ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষকের বেতন বিল বিদ্যালয় থেকে না পাঠানোর কারণে বেতন পাচ্ছেন না তারা।

এরপর চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি জোরপূর্বক পদত্যাগকৃত শিক্ষকদের ইএফটি চালুতে বাধাদানকারী শিক্ষকদের তালিকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারপরও বেতন পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ শিক্ষকদের।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষককে ৫ আগস্টের পর পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়। পরে নানাভাবে কিছু শিক্ষক ক্লাসে ফিরলেও এখনো ৭০ জনের মতো ক্লাসে ফিরতে পারেননি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তাদের শ্রেণি কার্যক্রম থেকে বিরত রেখে অভিযোগ যাচাইয়ে ‘তথ্যানুসন্ধান কমিটিও’ গঠন করেছে প্রশাসন। এই কমিটি এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও জমা পড়েছে হাতেগোনা কয়েকটি। ফলে এসব শিক্ষকের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ অবস্থা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও।

পাঠদান থেকে বিরত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, ‘শিক্ষার্থী আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলে আমি এখনো মনে করি না। তবে রাজনৈতিক, একাডেমিক কিংবা ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩-এর অধ্যাদেশ মেনে করা হয়নি। বিরত রাখা বলে টার্মও অধ্যাদেশে নেই। এ ছাড়া অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আমাদের বিষয়ে নিয়মনীতি কোনোটাই মানা হয়নি। এ ছাড়া যাদের পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে, তারা অত্যন্ত মেধাবী ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। ফলে পাঠদান ও শ্রেণি কার্যক্রমে সংকট দেখা দিচ্ছে। এ একাডেমিক জায়গায় যে ক্ষত তৈরি হলো, তার সুরাহা হবে কীভাবে?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন কালবেলাকে বলেন, ‘আমি প্রক্টর হিসেবে নতুন যোগদান করেছি। তদন্তের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এসব শিক্ষকের বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা উচিত।’

আবার কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ জন শিক্ষককে ওই সময় সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিক্ষক অধ্যাপক শাহজাহান মণ্ডল বলেন, ‘সিন্ডিকেটে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আমরা ক্লাস নেওয়া শুরু করেছি।’

মানা হচ্ছে না আদালত ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ: জোরপূর্বক পদত্যাগ করা অনেক শিক্ষকই মন্ত্রণালয় ও মাউশি থেকে সুরাহা না পেয়ে দ্বারস্থ হন উচ্চ আদালতের। উচ্চ আদালত অনেক শিক্ষকের পক্ষে রায় দিয়ে স্বপদে বহালের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর মাউশি ও মন্ত্রণালয়ও তাদের স্বপদে বহাল রেখে যোগদানের চিঠি দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা যোগদান করতে পারছেন না বলে অভিযোগ অনেক শিক্ষকের।

একদল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের তোপের মুখে পদত্যাগ করা রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরীকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এ নির্দেশ নিলেও তা মানছেন না বর্তমান অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদ। উল্টো দুই বছর থেকে দেওয়া হচ্ছে না তার কোনো বেতন। কেকা রায় চৌধুরী কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সব জায়গায় তা প্রমাণিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলার পরও কেন আমাকে যোগদান করতে দেওয়া হচ্ছে না, দুই বছর থেকে আমার বেতন দেওয়া হচ্ছে না, তা আমি জানি না। অথচ এ প্রতিষ্ঠানের পেছনে আমার কত শ্রম-ঘাম জড়িত।’

বরখাস্ত হওয়া একাধিক প্রতিষ্ঠানপ্রধান বলেন, আমাদের যোগদানে মূলত বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা। তারা বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ, ক্ষমতাসীন স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে এসব শিক্ষকের যোগদান করতে দিচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল কালবেলাকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের পুনর্বহাল করার জন্য আলাদা চিঠি দিচ্ছে। আমরা সেটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ, ডিসি ও ইউএনওদের পাঠাচ্ছি। তাদের কেউ কেউ যোগদান করেছেন, আবার কেউ কেউ স্থানীয়দের প্রতিবন্ধকতার কারণে যোগদান করতে পারছেন না। আমরা তো লোকালদের ম্যানেজ করতে পারি না। তাদেরই (শিক্ষক) ম্যানেজ করতে হবে।’

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘ন্যায্যতার ভিত্তিতে দ্রুততার সঙ্গে বিষয়গুলো সমাধান করার জন্য ইউজিসি থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা সমাধান করবে।’

সার্বিক বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ ড. মনজুর আহমদ কালবেলাকে বলেন, ‘মব করে শিক্ষক তাড়ানো নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা খুবই দুঃখজনক। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইন অনুসরণ করে তার বিচার করা হোক। এ ছাড়া এসব বিষয় আর ঝুলিয়ে না রেখে সরকারের উচিত দ্রুত সমাধান করা।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনায় ফজরের নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, আহত ২

মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা / আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, নেপথ্যে কী?

নবম পে-স্কেলে সুখবর: দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, বাড়ছে বিভিন্ন ভাতা

রামিসা হত্যা মামলা / মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট

বেদে পল্লীতে এসি-সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর রাজকীয় জীবনযাপন

উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র, ব্রাজিলের জন্য বড় অশনি সংকেত!

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

প্রাথমিকের পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ

১০

নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল ছাত্রলীগ

১১

নেইমারের সেই জার্সি পরেই মাঠে ছিলেন সাকিব

১২

নলকূপ বসাতে গিয়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

১৩

মমেক হাসপাতালে হাম ও হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যু বেড়ে ৫১

১৪

সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

১৫

একাই লড়েছেন ভিনিসিয়ুস / মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের অধিকাংশই ছিলেন নিষ্প্রভ

১৬

স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর

১৭

কেনেডি সেন্টার থেকে সরানো হলো ট্রাম্পের নাম

১৮

৩৬ বছরের আক্ষেপ মোচন / বিশ্বমঞ্চে জয়ের হাসি ফিরল স্কটল্যান্ডের মুখে

১৯

জাবির বাসে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্থা, ছাত্র বহিষ্কার

২০
X