

বুলাওয়েতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে ১৪৩ রান তুলেছিল। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলার টাইগাররা।
সিকান্দার রাজার স্মরণীয় মাইলফলকের ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩১৪তম ম্যাচ খেলতে নেমে রাজা জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েন। চোটের কারণে নাহিদ রানাকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। পাঁচ বোলারের আক্রমণ নিয়ে তারা জিম্বাবুয়েকে প্রত্যাশার চেয়ে কম রানে আটকে রাখতে সফল হন। তাসকিন আহমেদ ছিলেন সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর বোলার। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন দুই পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন। জিম্বাবুয়ের ইনিংসে উল্লেখযোগ্য ছিল কেবল দ্বিতীয় উইকেটে ব্রায়ান বেনেট ও ডিয়ন মায়ার্সের ৭১ রানের জুটি। মায়ার্স পরে নিজের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতকও তুলে নেন। তবে এরপর তাদের পুরো মিডল অর্ডারের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বোলিংও অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল নতুন বলের জুটি রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানির ওপর। এনগারাভা শুরুতেই একটি উইকেট শিকার করেন। তিনি, মুজারাবানি এবং ব্র্যাড ইভান্স মিতব্যয়ী বোলিং করলেও বাকি বোলাররা তাদের সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে পারেননি। ফলে কীভাবে রান তাড়া করতে হয়, তারই এক কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় বলেন, ‘ছেলেরা দারুণ খেলেছে। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগই খুব ভালো করেছে। শেষ দুই ম্যাচে আমরা পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছি এবং ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।’ গত দুদিনের আলোচনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে হারের পর আমরা একটি দলীয় বৈঠক করি। সেখানে কন্ডিশন এবং পরবর্তী ম্যাচগুলো কীভাবে খেলব, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর আমাদের ছেলেরা সত্যিই অসাধারণ খেলেছে। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই ইউনিটই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে।’ রিশাদ হোসেন সম্পর্কে হৃদয় বলেন, ‘রিশাদের সামর্থ্য সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। সুযোগ পেলেই সে নিজের চরিত্রের দৃঢ়তা দেখায় এবং এখানে বোলিংয়ে আধিপত্য বিস্তার করে।’ তানজিদ হাসান তামিম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সে একজন অসাধারণ ব্যাটসম্যান। আমরা তার সামর্থ্য জানি। যখনই সে সেট হয়ে যায়, তখন সবসময় ম্যাচ শেষ করে দলকে জয় এনে দেওয়ার চেষ্টা করে।’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরা হয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম।