

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পার হলেও ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিশ্বরাজনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আজও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে গত চার দশক ধরে পশ্চিম ইউরোপ ন্যাটোর মাধ্যমে মার্কিন নেতৃত্বের ছায়ায় স্থিতিশীল ছিল। তবে ২০২০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে এ সম্পর্কের ভিত্তিতে ভাঙন ধরা দিয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুধু ইউরোপের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর শর্ত আরোপ করেনি, বরং ইউরোপকে নিজস্ব নিরাপত্তা নীতি গ্রহণে বাধ্য করার সংকেত দিয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরও তীব্র হয়েছে, যা রীতিমতো যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক একে বিচ্ছেদ বলছেন। এসব নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন হুমায়ূন কবির
সন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের প্রায় আট দশক পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক এমন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৪৫ বা ১৯৮৯-৯১ সালের ভূ-রাজনৈতিক পটপরির্তনের সঙ্গে তুলনীয়। যে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপকে পুনর্গঠন করেছিল, শীতল যুদ্ধ সামাল দিয়েছিল এবং উদার গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছিল—সেই সম্পর্ক আজ গভীর অনিশ্চয়তা, অবিশ্বাস ও পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল, ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন এবং ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি আদর্শিক হস্তক্ষেপ—এ তিনটি প্রবণতা মিলিয়ে শুধু মিত্রতার সংকট নয়, বরং একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার জন্মলগ্ন নির্দেশ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ছায়ায় ইউরোপ
১৯৪৫ সালের ৮ মে নাৎসি জার্মানির আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে। কিন্তু যুদ্ধের ক্ষত ছিল গভীর—ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর, ভেঙে পড়া অর্থনীতি, কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু ও বাস্তুচ্যুতি। এ ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ইউরোপ গড়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে।
মার্শাল পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তা দেয়। একই সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণ ঠেকাতে ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠিত হয়। ইউরোপের নিরাপত্তা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ছাতার নিচে চলে আসে।
শীতল যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে এ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল। পশ্চিম ইউরোপ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, আর যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে ইউরোপের চূড়ান্ত ‘নিরাপত্তা গ্যারান্টার’। এমনকি ১৯৮৯ সালে বার্লিন দেয়াল পতন ও ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পরও এ সম্পর্ক অটুট থাকে।
কিন্তু এ ব্যবস্থার একটি মৌলিক দুর্বলতা ছিল—ইউরোপ ক্রমশ নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএস) হলো দেশের বৈশ্বিক নীতি ও নিরাপত্তা প্রাধান্য নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসন তার এনএসএস প্রকাশ করে, যা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে গঠিত। সম্প্রতি সেই কৌশল হালনাগাদ করে প্রকাশ করে ওয়াশিংটন। এ নথি মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে—
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নীতির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিদেশি মিশন বা মিত্রতার জন্য নিজের জাতীয় স্বার্থে আপস নেই।
অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা: মার্কিন ব্যবসা ও প্রযুক্তিকে বিশ্বে অগ্রাধিকার দেওয়া। চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা।
নিরাপত্তা ও সামরিক ক্ষমতা: ন্যাটোর মতো মিত্রতা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের প্রতি নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল সীমা স্থাপন করে। পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব।
মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের প্রচার: গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে মার্কিন নীতির অংশ হলেও, তা বিদেশি দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করতে ব্যবহৃত হতে পারে।
এ নীতি অনুযায়ী ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপকে আর ঐতিহাসিক মিত্রের মতো সমানভাবে দেখেনি। এনএসএস স্পষ্টভাবে আভাস দিয়েছে যে, ইউরোপের নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলা অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে যে, ইউরোপ নিজেই ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী দায়িত্ব নিক, আর মার্কিন সেনা-শক্তি শুধু সীমিত ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ নীতি ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে শুধু আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করছে, যেখানে ঐতিহাসিক দায়-বোধ বা যৌথ নিরাপত্তা অগ্রাধিকার থেকে দূরে সরে আসা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের উত্থান: মিত্রতা নয়, লেনদেন
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের সবচেয়ে প্রকাশ্য প্রভাব দেখা দিয়েছে ইউরোপে। যেখানে আগে যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্ককে ‘অবিচ্ছেদ্য মিত্রতা’ হিসেবে ধরা হতো, সেখানে এখন সম্পর্কের ভিত্তি দাঁড়াচ্ছে শর্ত ও দায়িত্বের পরিমাপের ওপর।
চলতি বছরের শুরুর দিকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর ইউরোপের নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজেই তৈরি করতে হবে। এটি ঐতিহাসিকভাবে যে ধরনের যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো ছিল, যা মার্কিন নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল—তার বিরুদ্ধে মৌলিক পরিবর্তন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক বিবেচনা নয়; এটি ভূ-রাজনৈতিক আদর্শের পরিবর্তন, যেখানে ইউরোপকে আর উদার গণতান্ত্রিক মিত্র হিসেবে দেখার পরিবর্তে, মার্কিন নীতি তার স্বার্থে মাপা হচ্ছে।
ইউরোপের বিচ্ছিন্নতা বাড়ার অন্যতম কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এ কৌশলে সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ভিনদেশি হুমকি হিসেবে ‘অতিরিক্ত অভিবাসন’-কে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি চীন, রাশিয়া বা সন্ত্রাসবাদ থেকেও বড় হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ: ইউরোপের মাথার ওপর সিদ্ধান্তের আশঙ্কা
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিফলন হলো ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ অভূতপূর্ব ঐক্য দেখালেও, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সে ঐক্য ভাঙন ধরেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে ইউক্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব ইউরোপকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হবে না।
এটি ইউরোপের জন্য নিঃসন্দেহে এক ‘ইতিহাস পুনরাবৃত্তি’ সংকেত, যেখানে বড় শক্তি ইউরোপের অংশগ্রহণ ছাড়া ছোট দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।
মিউনিখে জেডি ভ্যান্স: কূটনীতি নয়, আদর্শিক সংঘাত
ওই মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভাষণ একটি অনন্য সংকেত দেয়। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশ না দিয়ে, তিনি ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি আক্রমণ চালান।
ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইউরোপ স্বাধীন মত প্রকাশ দমন করছে, গণতন্ত্র দুর্বল করছে এবং ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী দলগুলোর উত্থান থামাতে বাধা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসন মিত্রতা নয়, রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব বিস্তারকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
ইউরোপের একাকিত্ব : বহুমুখী সংকট
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ইউরোপ কার্যত তিন দিক থেকে চাপে পড়েছে—
নিরাপত্তা সংকট: ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা এখনো খণ্ডিত। যৌথ বাহিনী, অস্ত্র উৎপাদন ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
রাশিয়ার হুমকি: ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলেও, রাশিয়ার সামরিক ও হাইব্রিড হুমকি—সাইবার হামলা, সীমান্ত উত্তেজনা, নাশকতা—অব্যাহত থাকছে।
চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব: ইউরোপের শিল্প, প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় অংশ চীনের ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিমা দেশগুলোর বিভাজন চীন ও ভারতকে নতুন কৌশলগত সুযোগ দিয়েছে।
এ তিন চাপ মিলিয়ে ইউরোপের একাকিত্ব আর কল্পনা নয়, বাস্তব শঙ্কা।
কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাস্তবতা না রাজনৈতিক স্লোগান
ফ্রান্স, জার্মানি ও অন্যান্য দেশ এখন ‘কৌশলগত স্বনির্ভরতা’র কথা বলছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো, যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, নতুন অংশীদার খোঁজা—এসব উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, ইউরোপ কি রাজনৈতিক ঐক্য ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবে? না কি অভ্যন্তরীণ বিভাজন এ প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করবে?
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ও আধুনিক সামরিক সক্ষমতা ছাড়া ইউরোপের স্বনির্ভরতা আংশিকই বাস্তবসম্মত। তাই রাজনৈতিক আত্মনির্ভরতার প্রচেষ্টা হলেও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য ইউরোপকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অন্তত আংশিক সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে।
রাশিয়া ও চীন : নীরব দর্শক, প্রকৃত লাভবান
ট্রান্সআটলান্টিক বিভাজনের সবচেয়ে বড় লাভবান হলো রাশিয়া। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে সরে আসে বা ইউক্রেনকে চাপ দেয়, রাশিয়া পূর্ব ইউরোপে নিজের প্রভাব বৃদ্ধি করতে পারবে।
চীনও এ পরিস্থিতি আগ্রহে পর্যবেক্ষণ করছে। পশ্চিমা ঐক্য দুর্বল হলে বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে, যেখানে চীন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। ভারতসহ উদীয়মান শক্তিও পশ্চিমের বিভাজনকে সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না নতুন অধ্যায়
যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের এ পরিবর্তন একটি যুগের অবসান নির্দেশ করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে পশ্চিমা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা আজ আর অটুট নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে, মার্কিন নীতি পরিবর্তনশীল, শর্তসাপেক্ষ এবং আর ঐতিহাসিক দায়িত্বের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ভবিষ্যৎ দুটি পথে যেতে পারে। একদিকে, ইউরোপ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজের শক্তি গড়ে তোলে, তবে একটি নতুন ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থার জন্ম হতে পারে। অন্যদিকে, বিভক্ত ইউরোপ ধীরে ধীরে বড় শক্তিগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে—যেমনটি ইতিহাসে বহুবার ঘটেছে। এ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন একটাই— ইউরোপ কি এবার ইতিহাসের পাঠ থেকে শিক্ষা নেবে, না কি আবারও অন্যদের হাতে নিজের ভবিষ্যৎ লিখতে দেবে? যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল, ইউক্রেন যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং ভৌগোলিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার মিলিত প্রভাব এ সিদ্ধান্তকে সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত করছে।