

সৈয়দ শামসুল হক বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগের প্রখ্যাত সাহিত্যিক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সব শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। প্রথিতযশা লেখিকা ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক সৈয়দ হকের স্ত্রী। সৈয়দ হক মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কমবয়সী। এ ছাড়া বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক এবং ২০০০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও মা হালিমা খাতুন। একাত্তরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ত্যাগ করে লন্ডন যান এবং সেখানে বিবিসির বাংলা খবর পাঠক হিসেবে চাকরি গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরটি পাঠ করেছিলেন। তার কবিতায় রয়েছে গভীর অনুপ্রেরণা। তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ একদা এক রাজ্যে ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। পরে পরাণের গহীন ভেতর, নাভিমূলে ভস্মাধার, বেজান বৃষ্টি ও জলের কবিতা কাব্যগ্রন্থগুলো তাকে পাঠকমহলে জনপ্রিয় করে তোলে। উল্লেখযোগ্য রচনা—নিষিদ্ধ লোবান, খেলারাম খেলে যা, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নূরলদীনের সারাজীবন। শামসুল হক ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান।