মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সেই দিনটি

ফিলিপাইন বিপ্লব

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিপাইন বিপ্লব বিশ্বজুড়ে ‘পিপল পাওয়ার রেভল্যুশন’ (People Power Revolution) বা ‘এডসা (EDSA) বিপ্লব’ নামেও পরিচিত। আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং শান্তিপূর্ণ গণঅভ্যুত্থান। ১৯৮৬ সালের ২২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী এই বিপ্লব ২০ বছরের স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের পতন ঘটায়। এর মধ্য দিয়ে ফিলিপাইনে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়।

এই বিপ্লবের বীজ বপন করা হয় মূলত ১৯৮৩ সালে। সে সময় জনপ্রিয় বিরোধীদলীয় নেতা বেনিগনো অ্যাকুইনো জুনিয়রকে নির্বাসন থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড মার্কোস সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের দাবানল জ্বালিয়ে দেয়। অর্থনৈতিক মন্দা, চরম দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের ফলে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কোস ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে নিজেকে জয়ী ঘোষণা করেন। এ সময় জনগণের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে এবং তারা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।

বিপ্লবের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ম্যানিলার ‘এপিফানিও ডি লস সান্তোস অ্যাভিনিউ’ বা এডসা (EDSA) সড়ক। গির্জার সমর্থন এবং বিরোধী নেত্রী কোরাজন অ্যাকুইনোর আহ্বানে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। মজার ব্যাপার হলো, এ বিশাল জনসমুদ্রের অস্ত্র ছিল ফুল, মোমবাতি আর প্রার্থনা। যখন মার্কোস সরকার বিক্ষোভ দমনে ট্যাংক এবং সশস্ত্র সেনা পাঠায়, তখন সাধারণ মানুষ ও সন্ন্যাসিনীরা ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং সেনাদের ফুল উপহার দেন। জনস্রোতের এ ভালোবাসা ও সাহসের কাছে নতিস্বীকার করে অনেক সেনাসদস্য বিদ্রোহ করেন এবং জনগণের সঙ্গে যোগ দেন।

পতন ঘটে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে কোরাজন অ্যাকুইনো ফিলিপাইনের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। একই দিনে জনরোষ থেকে বাঁচতে ফার্দিনান্দ মার্কোস তার পরিবারসহ দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। কোনো রক্তপাত ছাড়াই একটি শক্তিশালী স্বৈরশাসনের পতন ঘটে, যা বিশ্বকে অবাক করে দেয়।

ফিলিপাইন বিপ্লব প্রমাণ করে যে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তি এবং অহিংস আন্দোলন যে কোনো কঠোর স্বৈরশাসনকেও উপড়ে ফেলতে পারে। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শুধু ফিলিপাইনের মানুষ মুক্তি পায়নি। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও পূর্ব ইউরোপের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এটি বিরাট অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এ বিপ্লব ইতিহাসের পাতায় বীরত্ব আর শান্তির এক অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩৪ তলার ফ্ল্যাট কেনার পর জানতে পারলেন ভবনটিই ৩২ তলা

চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প

পদত্যাগী মন্ত্রীর বাসায় খিচুড়ি, প্রতিমন্ত্রীর সভা শেষে বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন

বাজেটে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : মির্জা ফখরুল 

মৌচাকে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল খুন

মহানগর যুবদল নেতা বহিষ্কার

নুরজাহান বেগমের মৃত্যু : সমাজের এক নির্মম আয়না

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে স্থায়ী বহিষ্কার 

পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হলেন প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান

তনু হত্যা  / ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ ২ আসামির বিরুদ্ধে 

১০

নাগরিকসেবায় অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

১১

হোয়াটসঅ্যাপে ইসরায়েলের সাইবার হামলা, মামলা করবে মেটা

১২

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১৩

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ট্রেনিং সেন্টার / ৬ দিনব্যাপী ফাউন্ডেশন কোর্সের দ্বিতীয় পর্ব শুরু

১৪

এনসিপিতে যোগ দিলেন বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী

১৫

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য : হালাল পণ্যে বড় সম্ভাবনা

১৬

ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা

১৭

মুক্তির আগেই সাফল্যের দুয়ারে ‘ককটেল ২’

১৮

ইসরায়েলে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

১৯

নারী-পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার : মঈন খান

২০
X