

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারি দল এবং বিরোধী দল একে অপরের পরিপূরক। অর্থাৎ বিরোধী দল সরকারেরই অংশ। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বহু দল ক্রিয়াশীল থাকলেও সরকারি দল ও বিরোধী দল একে অপরকে পরাস্ত করার প্রচেষ্টায় রত থেকেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্ত, অবর্ণনীয় নিপীড়ন, লাখো মা-বোনের সম্ভ্রম ও সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞের বিনিময়ে জাতি যে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রত্যাশা করেছিল, তা স্বাধীনতার অর্ধশতাধিক বছর পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেল। এর প্রধান কারণ, প্রায় প্রতিটি দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা ছিল অনুপস্থিত। তাই যে দলই জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল, সে দলই হয়ে উঠেছিল কর্তৃত্ববাদী। এই কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতির জন্য কোনো জাতীয় সমস্যাতেও দলগুলো একমত হতে পারেনি। গণতন্ত্রে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তাদের প্রতিনিধি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত করে এবং এই প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষ থেকে নীতিনির্ধারণ করে সরকার পরিচালনা করে, যেখানে নাগরিক স্বাধীনতা, সাম্য এবং মানবাধিকার নিশ্চিত হওয়ার কথা। কিন্তু কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় সরকার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহি না থাকায় জনগণের সব প্রত্যাশাই পরাভূত হয়েছে।
১৯৯০ সালেও জাতি একাত্তরের প্রত্যাশা পূরণের স্বপ্ন দেখেছিল। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সব দল তিন জোট বেঁধে আন্দোলন করেছিল। আন্দোলন সফলও হয়েছিল। তিন জোট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি রূপরেখা স্বাক্ষর করে জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধও হয়েছিল। কিন্তু পরে কোনো দলই সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি। জাতি দ্বিতীয় বার হোঁচট খেয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতি আবার আশা বাঁধল, মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা হয়তো এবার পূরণ হবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদ গঠন হলেও জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র অনৈক্য জোরদার হতে দেখা যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ফেলে যাওয়া নানা সমস্যা, রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যের পাশাপাশি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বহুমাত্রিক সংকট ধেয়ে আসছে। বিনিয়োগ নেই, তাই প্রবাসী আয়ে রিজার্ভ বৃদ্ধি ছাড়া অতিমাত্রায় বিদেশি ঋণসহ অর্থনীতির সব সূচকই নিম্নমুখী। দুর্নীতি এখনো সর্বগ্রাসী। গরিব জনগোষ্ঠী, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজীয় অনেক পণ্যের দাম ও আয়বৈষম্য বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার চ্যালেঞ্জ তো আছেই।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ সংশোধিত প্রতিবেদনে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে ৩.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি, দ্রব্যমূল্য এবং আয়বৈষম্য ভালো কিছু নির্দেশ করছে না। অবশ্য, বিশ্বব্যাংক ৪.১ শতাংশ এবং এডিবি ৫.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
২০২২ সালের সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী গিনি সহগ ০.৪৯৯। শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর হাতে মোট আয়ের ৪১ শতাংশ এবং শীর্ষ ৫ শতাংশের হাতে ৩০.০৪ শতাংশ আয় কুক্ষিগত। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ দরিদ্রের আয় মাত্র ০.৩৭ শতাংশ। গ্রাম ও শহর মধ্যে এ বৈষম্য বেড়েই চলেছে।
ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্যের মূলে রয়েছে অর্থ-সম্পদ কুক্ষিগত হওয়া ব্যাংক আমানতের বড় অংশ অল্প কিছু মানুষের হাতে থাকা এবং অতিধনী-অতিদরিদ্রের পার্থক্য বৃদ্ধি পাওয়া।
জ্বালানিকে বলা হয়, জীবন ও জীবিকার প্রাণ শক্তি। তাই ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের সংকটে বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, যেমন—জাতীয় আয়, বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে অস্থির বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১১০ থেকে ১১৯ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১১০ থেকে ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে তেলের এই চড়া দাম বজায় থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়লে গণতন্ত্রের পথচলা কণ্টকাকীর্ণ হতে পারে বা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে তাদের দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে তা সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে। কোনো অবৈধ বা আরোপিত আদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন বা এই সনদ বাস্তবায়ন করা যাবে না এবং প্রয়োজন হলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে হবে।’ তিনি বলেছেন, “সাংবিধানিকভাবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো অস্তিত্ব নেই। রাষ্ট্র সাংবিধানিক ও আইনি পথেই চলবে।”
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘এই সনদ বাস্তবায়নে কোনো শৈথিল্য বা কালক্ষেপণ মেনে নেওয়া হবে না এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’ পাশাপাশি, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের টিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা হবে।’
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম এক মাসে তার দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রতিগুলো অতি দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘খাল খনন কর্মসূচি’ ও ‘ইমাম-মোয়াজ্জেম ও পুরোহিতদের অনুদান’সহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে জনগোষ্ঠী, চা-শ্রমিক এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ মানুষকে বিভিন্ন ভাতার সুবিধা দিয়েছে। এ ছাড়া, ২০২৩-২৪ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনারদের জন্য বিশেষ ভাতা বা মহার্ঘ ভাতা চালু করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা সরকারের প্রথম ২৮ দিনের ২৮টি পদক্ষেপকে ‘এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, এসব পদক্ষেপ ‘সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে।’
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার চাপে থাকা বিএনপি সরকার এটিকে কতটুকু নিয়ন্ত্রণে এনেছে, সে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়া ও তার স্থলে একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগের এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করার পদ্ধতি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছে।
পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও ৪২ জেলায় দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় দলের সমর্থক শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়েও বেশ সমালোচনা আছে।
সব মিলিয়ে দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি একান্তভাবেই প্রয়োজন। অভ্যুত্থানের শেষ দাবি ‘ফ্যাসিবাদের বিলোপ’। এই দাবির অর্থই হচ্ছে, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সুশাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা। যেহেতু অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোই সংসদে। সংসদের অনুমোদন ছাড়া যেহেতু কোনো কিছুই আইনে পরিণত হবে না, তাই সংসদে সংবিধানের মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো এড়িয়ে গঠনমূলক আলোচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সুশাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করে এমন বিষয়গুলো সংস্কার করা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে এটা পরিষ্কার, সংসদের ভেতরে অভ্যুত্থানের সব শক্তির মধ্যে আলোচ্য বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতা না হলে সংঘাত-সংঘর্ষকে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। দলগুলো যাই করুক, জাতি আবার ভয়ংকর বিপর্যয়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিতে সক্রিয় হবে না বলেই অনেকেই মনে করে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের রেশ এখনো কাটেনি। আর নির্বাচনের আগে ও পরে সব পরাশক্তি বাংলাদেশের ওপর তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে সক্রিয় থাকে। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘নিরাপত্তা সহযোগিতা’ আছে, যা মার্কিন জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দ্বিতীয়ত, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ঘিরে ভূ-রাজনীতি। আবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা গোপন চুক্তি। প্রধানত, এসব কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইবে, যাতে বাংলাদেশ চীনের বলয়ে ঢুকতে না পারে।
অন্যদিকে, ভারত প্রধানত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের ওপর কৌশলগত ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে চায়। শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর, যার ফলে স্থিতিশীল প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে বন্ধুভাবাপন্ন সরকার পছন্দ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ভারত বছরে থেকে প্রায় ৯-১১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫৭-১৭৬ কোটি ডলারের পণ্য।
চীন প্রধানত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, বিশাল বাজার (বাংলাদেশে একতরফা প্রায় ২,৯১,৬৬১ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি) এবং ভারত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তারের (ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল) জন্য বাংলাদেশকে কাছে পেতে চায়। ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পের অংশগ্রহণ এবং বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ ঢাকাকে বেইজিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী করে তুলেছে।
রাশিয়ার ২০১৯-২০ অর্থবছরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রযুক্তিগত ও ঋণের পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। আর বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া, রাশিয়া বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগের আগ্রহী। অন্যদিকে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থানের মূল কারণ ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ, ইউক্রেন সংঘাত এবং বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব। রাশিয়া মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্ব তাদের নিরাপত্তা ও প্রভাবের পরিধি কমিয়ে আনছে এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তাদের দুর্বল করতে চায়। এজন্যও রাশিয়া বাংলাদেশকে পাশে পেতে চায়।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান এই চার পরাশক্তির ক্রসরোডে, অর্থাৎ বলাই যায় ভূ-রাজনীতির ফাঁদে বাংলাদেশ। তাই অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে সমঝোতাই উত্তম পথ।
লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলাম লেখক