

বাংলাদেশ-ভারত সাম্প্রতিক ফুটবল দ্বৈরথ উত্তেজনার ডালি নিয়ে হাজির হচ্ছে বটে, প্রতিবেশী দেশটির বিপক্ষে সর্বশেষ জয়ের স্মৃতিটা কিন্তু লাল-সবুজরা ভুলতে বসেছে। ২০০৩ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জয় নেই প্রতিবেশী দেশটির বিপক্ষে। ঢাকায় আজ সে আক্ষেপ ঘোচাতে চায় স্বাগতিকরা।
সে আকাঙ্ক্ষা শুধু হাভিয়ের ক্যাবরেরা কিংবা তার দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফুটবলসংশ্লিষ্ট এবং দর্শক-সমর্থকরাও আজ কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে প্রতীক্ষায় থাকবেন। বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার বিল্পব ভট্টাচার্য্যের ফেসবুক পোস্টে। সাবেক এ গোলরক্ষক বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে লিখেছেন, ‘১৮ নভেম্বর হৃদয়ে জমে থাকা সব ব্যথা আমরা ভুলে যাব। ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র একটি জয়, তারপর আমরা সমগ্র বাংলাদেশ আনন্দে আত্মহারা হব। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি—গেয়ে। বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের জন্য ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের অপেক্ষা হামজা, জামাল, সামিত, রাকিব, তপুদের কাছে। আমরা ২০২৫-কে বিদায় জানাতে চাই জয় দিয়ে। জয়ের অপেক্ষায় সারা বাংলাদেশ!’
বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথে জয়ের পাল্লা ঝুঁকে আছে ভারতের দিকে। দুই দেশের খেলা স্বীকৃত ২৭ ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ১১ বার। বাংলাদেশের জয় সংখ্যা ৩, বাকি ১৩ ম্যাচ ড্র হয়েছে। দুই দলের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটি ড্র হয়েছে, আরেক ম্যাচ জিতেছে ভারত। বাংলাদেশ স্বীকৃতি ম্যাচে সর্বশেষ ভারতকে হারিয়েছিল ২২ বছর আগে—২০০৩ সালের ঢাকা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল চলতি বছরের মার্চে—ভারতের অঙ্গরাজ্য মেঘালয়ের শিলংয়ে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে। লাল-সবুজ জার্সিতে হামজা চৌধুরীর অভিষেক, ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য।
১৯৯১ সালের কলম্বো সাফ গেমসে রুমির জোড়া গোলে বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল, ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ২-১। ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ গেমসে শাহাজউদ্দিন টিপুর একমাত্র গোলে জিতেছিল লাল-সবুজরা। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ঢাকা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মতিউর মুন্না ও রোকনুজ্জামান কাঞ্চনের গোলে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ গোলে। বাংলাদেশ দল সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জয় পেয়েছিল ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর, ঢাকায় মালদ্বীপের বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাই প্লে-অফ ম্যাচে। সবধরনের আন্তর্জাতিক দ্বৈরথে সর্বশেষ জয় ছিল চলতি বছরের ৪ জুন ফিফা প্রীতি ম্যাচে, ভুটানের বিপক্ষে।
হামজা চৌধুরী, সামিত সোম, ফাহমিদুল ইসলাম, জামাল ভূঁইয়া, জায়ান আহমেদদের বাংলাদেশ দল নিকট অতীতে ভালো ফুটবল উপহার দিলেও জয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না। ভারত, হংকং, চায়নার পর সর্বশেষ ফিফা প্রীতি ম্যাচে নেপালের বিপক্ষেও দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল হাভিয়ের ক্যাবরেরার দল। কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোলে জয়বঞ্চিত ছিল লাল-সবুজরা। আজ কি ঘুচবে সে আক্ষেপ।
ফল কী হয়—সময়ই বলবে। ম্যাচের আগে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুও তেমন প্রত্যাশা করছেন, ‘ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা থাকবে প্রবল। বাংলাদেশের জন্য এবং তাদের দর্শকদের জন্য এটি সবসময়ই বড় ম্যাচ, কারণ প্রতিপক্ষ ভারত। আমাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ এটি সবসময়ই কঠিন ম্যাচ। হয়তো ম্যাচ দেখার মতো সুন্দর হবে না, হয়তো এলোমেলো হবে। দল হিসেবে আমাদের যে কোনো চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মাঠে নামলে আমাদের শক্ত হতে হবে।’