

আয়ারল্যান্ডের শেষ ব্যাটার ম্যাথু হামফ্রেসকে ফিরিয়েই দারুণ এক কীর্তিতে ভাগ বসালেন তাইজুল ইসলাম। টেস্ট ক্রিকেটে উইকেট শিকারের দিক থেকে সাকিব আল হাসানকে ছুঁয়ে ফেলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। দুজনের উইকেট সংখ্যা এখন সমানে সমান। ভবিষ্যতে তাইজুল শুধু সাকিবকেই ছাড়িয়ে যাবেন তা নয়—দেশের টেস্ট ইতিহাসে নিজের নামটাও স্বর্ণাক্ষরে লিখে যাওয়ার দারুণ সুযোগের সামনে তিনি। বয়স, ফিটনেস, পারফরম্যান্স—সবকিছুই তাইজুলের হয়েই কথা বলছে।
২০১৪ সালে টেস্ট ক্রিকেটের পথচলা শুরু হয়েছিল তাইজুলের। কিন্তু এ সংস্করণে তিন বছর সাকিবের ছায়া হয়ে থাকতে হয়েছিল ৩৩ বছর বয়সী এই স্পিনারকে। বাঁহাতি হওয়ায় সাকিব একাদশে থাকলে তার সুযোগ তেমন মিলত না সেভাবে। আবার একই ম্যাচে সাকিব ও তাইজুল দুজনই থাকলেও পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকতেন সাকিবই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে আগ্রহ হারাতে শুরু করেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার সাকিব। এরপরই পাদপ্রদীপের আলোয় দেখা মিলতে থাকে তাইজুলকেও। দলে এখন তিনি অপরিহার্য বাঁহাতি স্পিনার। সাকিব থাকা ও না থাকার মধ্যকার সময়ের পার্থক্যটা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে পরিসংখ্যানেও।
২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর পর্যন্ত সময়ে তাইজুল খেলেছিলেন ১৫ টেস্ট। এ সময়ে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ২৮ ইনিংসে ৫৪টি। একই সময়ে সাকিব খেলেন ১৭টি টেস্ট এবং ৩০ ইনিংসেই নেন ৬৬টি উইকেট। এ সময়ে এসে টেস্ট থেকে মনোযোগ নড়ে যায় সাকিবের। সুযোগ বাড়তে থাকে তাইজুলের। চলমান ঢাকা টেস্ট পর্যন্ত তাইজুল এ সময়ে খেলছেন ৪২টি ম্যাচ; নিয়েছেন ১৯২ উইকেট। সাকিব খেলেন মাত্র ২০ ম্যাচ, যেখানে তার উইকেট সংখ্যা ৫৮টি। অর্থাৎ সাকিবের অনিয়মিততায় নিজের সক্ষমতা দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলার কাজটা করে গেছেন তাইজুল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাকিবকে ছুঁয়েছেন তিনি। এবার কতদূর যাবেন—দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নে তাইজুলের উত্তর, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলাটা কঠিন। কিন্তু আপনি একজন খেলোয়াড় হিসেবে যতদিন খেলবেন, আপনার পারফরম্যান্সটাই কথা বলবে যে, আপনি কতদূর যেতে পারবেন। আমার কাছে মনে হয় এখানে প্রসেসিংটা হচ্ছে খুব গুরুত্বপূর্ণ, সঙ্গে পারফরম্যান্স। আমি যতদিন খেলব, পারফরম্যান্স করতে পারব, ততদিন হয়তো বা একটা অবস্থানে যেতে পারব।’
কখনো কি সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাইজুল! এমন প্রশ্নে বাঁহাতি স্পিনারের উত্তর, ‘যে সময়টায় আমার ধারাবাহিকতা আসছে, অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে। আমার নিজের মধ্যে একটা বিশ্বাস আসছে যে, আমাকে হয়তো বা বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেকদিন সুযোগের মধ্যে রাখবে। ওই সময় এমন মনে হয়েছিল যে না, একটা সময় আমি অনেক উইকেটের মালিক হতে পারব।’ তিন সংস্করণ মিলিয়ে কিছুদিন আগেই ৫০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তাইজুল। ঢাকা টেস্টেই আবার সাকিববে পেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে তাইজুলের। সামনে বাংলাদেশের অনেকগুলো টেস্ট সিরিজ। ২০২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরেও আলাদা কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন তাইজুল। ক্যারিয়ার শেষে উইকেট সংখ্যাটা কত দেখতে চান সেটাও জানান তিনি, ‘আমাকে যদি আল্লাহ ৭০০টা দেয়, আমি ৭০০টাই চাইব ইনশাআল্লাহ।’ সব ঠিক থাকলে ক্যারিয়ারে আরও ৩৫-৪০টির মতো টেস্ট খেলার সুযোগ আছে তাইজুলের। সে জায়গা থেকে বড় স্বপ্নকে সত্যিই করেই ক্যারিয়ারের ইতি টানার দারুণ সুযোগ তার সামনে।