

ফুটবলে কোন দল কতটা শক্তিশালী, সেটার মানদণ্ড হতে পারে র্যাংকিং। সেই মানদণ্ডে আর্জেন্টিনার তুলনায় অনেক পিছিয়ে মৌরিতানিয়া। র্যাংকিংয়ে লিওনেল মেসিরা আছেন দ্বিতীয় স্থানে। তাদের প্রতিপক্ষ মৌরিতানিয়া পিছিয়ে ১১২ ধাপ। ফলে ম্যাচের আগে সবাই ধারণা করেছিল হয়তো বড় ব্যবধানে জয় পাবে আর্জেন্টিনা। কিন্তু বাস্তবে ২-১ গোলের ব্যাবধানে কোনোরকমে জিতেছে তারা। ম্যাচ শেষে তাই কোচ লিওনেল স্কালোনির সরল স্বীকারোক্তি, ‘ম্যাচটা আমরা ভালো খেলিনি এবং এটাই বাস্তব।’
আর্জেন্টিনা যদিও প্রথমার্ধে ২ গোলে লিড নিয়েছিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তারা গোল হজম করে। লিওনেল মেসি প্রথমার্ধে সাইড বেঞ্চে ছিলেন। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তাকে খেলার সুযোগ করে দেন কোচ স্কালোনি। বুয়েন্স আয়ার্সের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়াম মেসিকে স্বাগত জানানোর আগেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর তিনি মাঠে নেমে বাঁ পায়ের ঝলক দেখালেন। যদিও জালের দেখা পাননি। আর্জেন্টিনার পক্ষে দুটি গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও নিকো পাজ। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মৌরিতানিয়ার হারের ব্যবধান কমান জর্ডান লেফোর্ট। জয়ের পর কোচ স্কালোনি বলেন, ‘সব সময়ের মতো এই ম্যাচ থেকেও অনেক কিছু ঠিক করার আছে। তবে ভুলগুলো এখনই হওয়া ভালো। তবে আমরা যখন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি, তখন দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দল ভালো খেলেনি। এটা মানতে হবে এবং কিছু বিষয় ঠিক করতে হবে।’ মেসিকে বিরতির পর নামানো নিয়ে কোচ বলেন, ‘মেসির খেলার সময় নিয়ে তার সঙ্গে আগেই কথা হয়েছিল, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই তাকে খেলানো হয়েছে।’ নিজেদের আত্মসমালোচনায় মার্তিনেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে, পারফরম্যান্স খুবই দুর্বল ছিল। আমাদের খেলা প্রীতি ম্যাচগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বাজে ম্যাচ। আমাদের খেলায় তীব্রতা ছিল না, কোনো ছন্দ ছিল না, এমনকি গতিরও অভাব ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাগ্যিস, বেঁচে গিয়েছি ফিনালিসিমার ম্যাচটি বাতিল হওয়ায়। যেভাবে খেলেছি আজ, তাতে ওই ম্যাচে নির্ঘাত হারতাম।’ ম্যাচ জিতলেও আর্জেন্টিনা ৬৪ শতাংশ বেল পজিশনের পরও ৭টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল। বিপরীতে ১১ শটের মধ্যে সমান ৪টি লক্ষ্যে ছিল মৌরিতানিয়ারও। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচে নামার আগে চিন্তায় থাকবেন স্কালোনির শিষ্যরা। জাম্বিয়ার বিপক্ষে ১ এপ্রিল ভোরে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা।