

বিশ্বকাপ মানেই শুধু গোল, জয়-পরাজয় বা শিরোপার লড়াই নয়; এর সঙ্গে সমানতালে চলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা—ব্র্যান্ডের আধিপত্যের লড়াই। ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও মুখোমুখি হয়েছে বিশ্বের দুই শীর্ষ স্পোর্টস ব্র্যান্ড, নাইকি ও অ্যাডিডাস। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দুই প্রতিষ্ঠানই আলোচনায় আসে তাদের উচ্চ বাজেটের প্রচারণা নিয়ে। নাইকির ‘রিপ দ্য স্ক্রিপ্ট’ বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আরলিং হালান্ড, ভিনিসিউস জুনিয়র, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লেব্রন জেমসকে। অন্যদিকে অ্যাডিডাসের ‘ব্যাকইয়ার্ড লিজেন্ডস’-এ জায়গা পেয়েছেন লামিন ইয়ামাল, জুড বেলিংহ্যাম, লিওনেল মেসি ও জিনেদিন জিদান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত ডেভিড বেকহ্যামের উপস্থিতি বিজ্ঞাপনটিকে দিয়েছে বাড়তি আকর্ষণ।
এসব প্রচারণা এখন আর শুধু বিজ্ঞাপন নয়; অনেকের কাছে এগুলো ছোটখাটো হলিউড ব্লকবাস্টারের সমতুল্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডিডাস তাদের এবারের প্রচারণায় প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে। যদিও দুই প্রতিষ্ঠানই প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেনি, তবু শিল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, উভয়ের বিনিয়োগই কয়েক কোটি পাউন্ডের কম নয়। ইউটিউব ভিউয়ের দৌড়ে অবশ্য এগিয়ে রয়েছে নাইকি। তাদের বিজ্ঞাপনটি প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ভিউ পেয়েছে, যেখানে অ্যাডিডাসের প্রচারণার ভিউ প্রায় ৭০ লাখ।
নাইকির গ্লোবাল ফুটবলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যামিলো আন্দ্রাদের মতে, ডিজিটাল যুগে একটি বিজ্ঞাপন দিয়েই দর্শকদের মন জয় করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিষ্ঠানটি বাস্তব ও ডিজিটাল—দুই জগতেই সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন একটি ফুটবলভিত্তিক অভিজ্ঞতা তৈরি করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত অ্যাডিডাস তাদের প্রচারণাকে ফুটবল সংস্কৃতি, শৈশবের স্মৃতি ও কিংবদন্তিদের আবেগের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বাজারের প্রতিযোগিতাও কম নয়। এবারের বিশ্বকাপে ১৪টি দলের কিট সরবরাহ করছে অ্যাডিডাস, ১২টি দলের সঙ্গে রয়েছে নাইকি এবং ১১টি দলের কিট দিচ্ছে পুমা। খেলোয়াড়দের স্পনসরশিপও এই ব্যবসার বড় অংশ। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে নাইকির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বার্ষিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বতর্মান সময়ে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি ফ্যাশন, সংগীত, গেমিং ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।