

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক (প্রকৌশলী) গোলাম হায়দার সরকারি ছুটি ছাড়াই ছয় মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি কাজে যোগদানের চেষ্টা করায় তা মঞ্জুর করেননি বিআরটিএর সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার। শিক্ষা ছুটি শেষ হওয়ার পর তিনি কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চেয়েছে বিআরটিএ। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সাড়া দেয়নি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমন্টে উচ্চশিক্ষার জন্য ২০২১ সালের ২ জুন থেকে ছুটি নেন সহকারী পরিচালক গোলাম হায়দার। গত বছরের ২০ মে উচ্চশিক্ষা শেষে তার দেশে ফেরার কথা। কিন্তু তিনি আরও ৬ মাসের ছুটির আবেদন করেন। নীতিমালা অনুযায়ী তাকে আরও ছয় মাসের ছুটি দেওয়া হয়। যার মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও তিনি দেশে ফেরেননি। পরে তিনি পিএইচডি অধ্যয়নের জন্য আরও ২ বছরের ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় অন্য কোনো কোর্সে ভর্তির আবেদন ও ছুটি মঞ্জুরের কোনো সুযোগ না থাকায় গত ১৯ ডিসেম্বর তাকে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর তিনি এক বছর ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। সেটিও মঞ্জুর হয়নি। তা সত্ত্বেও তিনি নির্ধারতি সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেননি। এরপর গত ১৯ জুন কাজে যোগদানের আবেদন করেন। কিন্তু চাকরিবিধি লঙ্ঘন হওয়ায় তার যোগদানপত্র মঞ্জুর করেনি কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী কালবেলাকে বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
চেয়ারম্যান হিসেবে নুর মোহাম্মদ মজুমদারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ৩০ জুন বিআরটিএর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন গৌতম চন্দ্র পাল (অতিরিক্ত সচিব)। এরপর গোলাম হায়দার নতুন চেয়ারম্যানের কাছে তথ্য গোপন করে চাকরিতে যোগদান এবং পদোন্নতির তদবির করেন।
জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বাড়ির পাশেই গোলাম হায়দার সরকারের বাড়ি। অভিযোগ উঠেছে, ওই কর্মকর্তার হস্তক্ষেপের কারণে তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চেয়ারম্যান বদলি হওয়ার পর ওই কর্মকর্তাই গোলাম হায়দারকে নিয়ম ভেঙে চাকরিতে যোগদানে সহায়তা করছেন।
জানতে চাইলে বিআরটিএর উপপরিচালক (প্রশাসন) রিপন কুমার সাহা বলেন, সহকারী পরিচালক গোলাম হায়দার কিছুদিন আগে চেয়ারম্যান বরাবর যোগদানের আবেদন দেন। কিন্তু তিনি সেটা মঞ্জুর করেননি। তার আবেদনটি মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য প্রেরণ করা হবে। মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটাই বাস্তবায়ন হবে।
এ বিষয়ে বিআরটিএর সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার ছুটি শেষে যখন কর্মস্থলে যোগদান করেননি, তখন আইন অনুযায়ী বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবগত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়। মন্ত্রণালয় কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় তার যোগদান পত্রটি মঞ্জুর করা হয়নি।
বিআরটিএর বর্তমান চেয়ারম্যান গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, বিষটি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত নই। তবে মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, আমরা সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
এ বিষয়ে গোলাম হায়দার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য কয়েকদিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বারবার তার মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইলে মেসেজ দিলেও কোনো উত্তর মেলেনি। জানা গেছে, তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীরা জেনে যাওয়া মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন তিনি।