বগুড়ার শিবগঞ্জে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৮) ধর্ষণের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ ওই ছাত্রীকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমানে মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটায় গতকাল শনিবার দুপুরে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের নান্দুরা ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী।
শিবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে (২৮) শুক্রবার বিকেলে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই ছাত্রীর বাবা শুক্রবার রাতে থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল আটমূলের নান্দুরা আকইল পাড়ার সাইদুর রহমানের ছেলে। তিনি এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন।
ওই ছাত্রীর চাচা জানান, গত শুক্রবার ছাত্রীটির বাবা-মা তার নানাবাড়িতে বেড়াতে যায়। এ কারণে বাড়িতে সে একাই ছিল। দুপুরে জুমার নামাজের সময় বৃষ্টি শুরু হলে অভিযুক্ত ওই যুবক বাড়িতে ঢুকে। ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে সে (ছাত্রী) অচেতন হয়ে পড়লে বারান্দায় থাকা চটের বস্তা, মশারি, পলিথিনসহ বেশ কিছু কাপড় তার শরীরের ওপর রেখে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনের তাপে জ্ঞান ফিরলে সে চিৎকার শুরু করে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে।
ওই ছাত্রীর বাবা জানান, আগুনে তার মেয়ের হাত-পাসহ শরীরের অধিকাংশ স্থান পুড়ে গেছে। বগুড়ায় যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব নয় জানিয়ে চিকিৎসকরা গতকাল দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
মন্তব্য করুন